অগনিত মামলার আসামী আবু মিয়ার হয়রানি কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ মাধবপুরের বহু পরিবার ! 

0
34

সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে নির্দোষ দাবী করার চলছে তোরজোড় !!

 এফআইআর টিভি অনলাইন ডেস্কঃ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় হত্যা, অপহরণ, চাদাবাজি, ব্যাংক জালিয়াতি, মাদক ও মারামারিসহ প্রায় ৩১টি মামলার তালিকাভূক্ত আসামী মোঃ আবু মিয়া। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অধিকাংশ মামলাই আদালতে বিচারধিন রয়েছে। আবু মিয়া উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু মামলা নয়, তার বিরুদ্ধে এলাকার সাধারণ মানুষকে হুমকি-ধামকি, মারপিট ও মিথ্যা মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার নানা অসামাজিক কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন মাধবপুর উপজেলার বহু পরিবার।
তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, হবিগঞ্জ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আবু মিয়া। এতে সে তার বিরুদ্ধে দায়েককৃত কয়েকটি মামলা মিথ্যা উল্লেখ করে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছেন।
 স্থানীয়রা জানান, তার নামে বিভিন্ন অভিযোগে রয়েছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট উপ-সচিবের ভাই হত্যা, মেহেরপুর গ্রামের নিরিহ মুয়াজ্জিন সহিদ মিয়ার নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা, খিলগাঁও গ্রামের সুখলাল সরকারকে অপহরন ও গুমের মামলা রয়েছে। তাছাড়া আরও ৪টি খুন, ৫টি সিটিং, ২টি চাঁদাবাজি, ২টি ব্যাংক জালিয়াতি, একাধিক ডাকাতি, চুরি, অগ্নি সংযোগ, মাদক ও মারামারির মামলাসহ ৩১ টি মামলা রয়েছে।
শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে মামলা করেও বিপাকে পড়েছেন অনেক বাদী। মিথ্যা মামলা দিয়ে অনেককে হয়রানী করছে সে। মামলা আপোষ করতেও দিচ্ছে হুমকি-ধামকি।
এলাকাবাসী আরও জানান, মেহেরপুর গ্রামের মুয়াজ্জিন সহিদ মিয়া তার মেয়েকে ধর্ষন চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে আবু মিয়াসহ ৮ জনকে আসামী করে গত ২০ ডিসেম্বর আদালতে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে গত ২৫ জানুয়ারী মামলাটি মাধবপুর থানায় রুজু করা হয়। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর  তার ঘরে ঢুকে একা পেয়ে মেয়ে সুলতানাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে ব্যার্থ হয়ে তাকে হত্যা করে আবু মিয়াসহ তার লোকজন। এ মামলায় আবু মিয়া দীর্ঘদিন পালাতক ছিল। পরে আদালতে হাজির হয়ে আবু মিয়া জামিন প্রার্থনা করলে  আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেন। এরপর ২০ দিন জেল কেটে জামিন লাভ করে আবু মিয়া। বর্তমানে মামলাটি তুলে নিতে বাদীকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে আবু মিয়া ও তার লোকজন। এতে শহিদ মিয়ার প্রাণের ভয়ে মিয়া স্ত্রীসহ অন্যত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
তাছাড়া গত ২৭ মে ২০২১ইং তারিখে একই ইউনিয়নের খিলগাও গ্রামের সুখলাল সরকারকে অপহরন ও গুমের অভিযোগে এনে আবু মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভিকটিমের ছেলে শ্রীবাস সরকার। মামলাটি পিবিআই হবিগঞ্জের তদন্তাধিন রয়েছে। বিষয়টি দামাচাপা দিতে আবু মিয়া উল্টো ভিকটিমের ছেলে শ্রীবাশ সরকারের বিরুদ্ধে দুইটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে এবং অপহরন মামলাটি আপোষ মিমাংসা করতে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ  প্রয়োগ করছে বলে বাদী শ্রীবাস সরকার জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here