অসাংবাদিক জাফর চক্রের’’ কুটকৌশলের জালে সাংবাদিক ইউনিয়ন !

0
81

স্টাপ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এর পর পর দুই বারের সফল মহাসচিব, সর্বজন শ্রদ্ধেয় মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি সোহেল হায়দার ভাইকে এখন “অসাংবাদিক জাফর চক্র” রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। সাংবাদিক না হয়েও সাংবাদিক সংগঠনের নেতা সেজে অপসাংবাদিকতায় লিপ্ত জাফর জমাদ্দার ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে পেশাদার প্রকৃত সাংবাদিকরা লড়াই চালিয়ে এলেও ইউনিয়ন নেতারা তা হয়তো খেয়াল করারও সময় পাননি। আর এ কারণেই ভূয়াচক্রের হঠাৎ আমন্ত্রণে পেশাজীবী সাংবাদিকদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সেখানে হাজির হন। তারা এটাও জানেন না যে, গত ১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতা কর্মির উপস্থিতিতে অপসাংবাদিকতার হোতা জাফর জমাদ্দার ওরফে আহমেদ আবু জাফরকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই তিনি কখনো ট্রাস্ট কখনো ফোরাম, কখনো সংগঠন নামে পাল্টা সংগঠন খুলে বসার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। প্রকৃত বিএমএসএফ নেতাদের নামে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। নেতারা হয়তো এটাও দেখেননি…যে মুহূর্তে আপনারা প্রেসক্লাবের ভিতরে তাদের পরিচিতিকে বাস্তবে দেশবাসীর কাছে সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছিলেন ঠিক সেই মুহূর্তেই এ চক্রের দায়ের করা মামলায় হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে দুই শতাধিক সাংবাদিকের প্রতিবাদ জমায়েত ও মানববন্ধন চলছিল।

তবে মান্যবর নেতাদের প্রতি বিনয়ের সঙ্গে বলছি, সংগঠনটির ভূয়া নেতাদের অবৈধভাবে গড়ে তোলা ট্রাস্ট (একাধারে ফোরাম হিসেবে পরিচালনার নজিরবিহীন কান্ড)’র হোতাদের পরোক্ষভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন তাহলে দয়া করে ওই সংগঠনের নির্বাহী বৈঠকের রেজুলেশনটি পাঠ করে তার বৈধ/অবৈধতাও ঘোষণা দিন, এতে আমরা হয়তো সাংবাদিকতা নামের অসাংবাদিকদের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবো।
সাংবাদিক ইউনিয়নের উভয় নেতার প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ শওদ্ধা রয়েছে, তাদের পরিচ্ছন্ন পেশাদারিত্ব, সততা নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন নেই। কে বা কারা আপনাদের ভুল তথ্য বুঝিয়ে, সত্য গোপন করে এমন একটি সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করে ফেলেছে তা দেখেই আমরা উদ্বিগ্ন। একবারের জন্য হলেও ভেবে দেখুন তো: আপনারা কি সাংবাদিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে গেলেন? নাকি ট্রাস্টের অনুষ্ঠানে? ৯১ জন নির্বাহী সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাহী কমিটি পরিচালিত ‘বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম’ (বিএমএসএফ) কিভাবে একক ক্ষমতায় পৈতৃক সম্পত্তির প্রক্রিয়ায় ট্রাস্টে পরিনত করলেন জাফর সাহেব।

বিশেষ ক্যাপশানঃ ডিইউজে’র নবনির্বাচিত সভাপতি যখন বক্তব্য দিতে ডায়াসে গেলেন তখনই তার চারপাশ ঘিরে আয়োজকরা সবাই কিভাবে বক্তব্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকলেন, রীতিমত দৃষ্টিকটু দৃশ্যপট? প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যকালে সামনের সারিবদ্ধ চেয়ারেই তো সবার শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে বসার কথা, কিন্তু তাদের প্রায় সবাই ঘেরাও করে অতিথি’র ছবি তোলার ভঙ্গিমায় মূলত: নিজের ছবি তোলাচ্ছেন।
সাংবাদিকতার বেশভূষা আর চালচলন রপ্ত করলেও এদের অধিকাংশই মূলধারার কোনো মিডিয়ায় সম্পৃক্ত নন, ফলে পেশাদারিত্বের সাংবাদিকতা তাদের ভাগ্যে জোটেনি। বরং সাংবাদিক সংগঠনের ব্যানারে জড়ো হওয়া অনেকেই চাঁদাবাজি, ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও হেরোইন বাণিজ্য পরিচালনা, এমনকি ধর্ষণসহ বহু মামলার আসামি। অনেকের সঙ্গে কালি আর কলমের পরিচয় নেই বললেই চলে। তারা বিএমএসএফ নেতা হিসেবেই সাংবাদিক বনে গেছেন। আবার কেউ কেউ অনুমোদনহীন ডটকম পোর্টাল বানিয়ে স্বঘোষিত সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, চীফ রিপোর্টারও হয়েছেন রাতারাতি। এ কারণে ডিইউজে সভাপতির সঙ্গে ছবি তুলে তা পোস্টার ও ক্যালেন্ডার বানিয়ে নিজের ‘সাংবাদিক পরিচয়’ আরো নিশ্চিত করতেই ব্যস্ত তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here