আমতলীতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে মারধোর করে হাত ভেঙ্গে ফেলেছে গ্রাম পুলিশ বড় ভাই !

0
44

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) থেকেঃ পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গেরাবুনিয়া গ্রামে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে মারধর করে বাম হাত ভেঙ্গে ফেলেছে গ্রাম পুলিশ বড় ভাই ফোরকান মোল্লা। গত সোমবার সন্ধ্যার পরে এ ঘটনা ঘটে।  মঙ্গলবার ৫ই এপ্রিল আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আহত তাসলিমা বেগম আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার গেরাবুনিয়া গ্রামের মোঃ হাবিব মোল্লার সাথে তার আপন বড় ভাই গ্রাম পুলিশ ফোরকান মোল্লার দীর্ঘদিন যাবৎ পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গ্রাম পুলিশ বড় ভাই ফোরকান মোল্লা জোর করে একটি গাব গাছ কাটাতে যায়। গাছ কাটতে ছোট ভাই হাবিব মোল্লা বাঁধা দেয়। তখন দু’ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বড় ভাই ফোরকান মোল্লা ও তার পুত্র নেছার মোল্লা ছোট ভাই হাবিব মোল্লাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দিতে থাকে এবং লোহার রড দিয়ে বেদম পিটাতে থাকে। তখন ছোট ভাই হাবিব মোল্লার ডাক চিৎকারে তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৪২) তার স্বামীকে রক্ষায় এগিয়ে যায়। তখন গ্রাম পুলিশ ফোরকান মোল্লা ও তার পুত্র নেছার মোল্লা তাসলিমা বেগমকে লোহার রড দিয়ে বেদড়ক পিটিয়ে বাম হাত ভেঙ্গে ফেলে ও তসলিমার পরনের কাপড় টানা হেচরা করে শ্লীলতাহানি ঘটায়। আহত তাসলিমা বেগম যাহাতে চিকিৎসা করাতে না পারে সেজন্য বাড়িতে আটকে রাখে। এ খবর তাসলিমা বেগমের পিতার বাড়ীর লোক শুনে স্থানীয় লোকজনদের সাথে নিয়ে ওই দিন রাত ৮টার দিকে আহত তাসলিমা বেগমকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।

হাসপাতালে বসে আহত তাসলিমা বেগম বলেন, আমার ভাসুর ফোরকান মোল্লা আমার স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি তাকে ভোগ দখল করতে দেয়না। জোর করে আমাদের সম্পত্তি তিনি ভোগ দখল করে আসছে। আমরা কিছু বললে আমাদেরকে মারধর করে ভয়ভীতি দেখায়। আমাকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ তানভীর শাহারিয়ার বলেন, আহত তাসলিমা বেগমের বাম হাত ভেঙ্গে গেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎস সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

আহত তাসলিমা বেগমের পুত্র মোঃ রাজিব মোল্লা বলেন, আমার বড় চাচা গ্রাম পুলিশ ফোরকান মোল্লা একজন খুনি। সে শহিদ মাস্টার হত্যা মামলার আসামী এবং সার্টিফিকেটে বয়স কমিয়ে গ্রাম পুলিশের চাকুরী নিয়েছে। আমাদের আমার বাবার পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ দখলে পদে পদে বাঁধা সৃষ্টি করে আসছে। গতকাল সন্ধ্যায় জোরপূর্বক আমাদের ভাগের একটি গাব গাছ কেঁটে নিয়ে যেতে চাইলে আমার বাবা তাতে বাঁধা দেয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে আমার বাবাকে লোহার রড দিয়ে পিটাতে গেলে তখন আমার মা বাঁধা দেয়। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মাকে রড দিয়ে পিটিয়ে তার বাম হাত ভেঙ্গে দিয়েছে চাচা ফোরকান মোল্লা ও তার ছেলে নেছার মোল্লা।

অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ মোঃ ফোরকান মোল্লার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলবেন না বলে ফোনের সংযোগটি কেঁটে দেন।

আঠারগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, আমি ঘটনা শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here