আর নেই সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার সাহেব  ” ইন্না-লিল্লাহ অইন্না ইলাহি রাজিউন” নামাজে জানাজা সকাল সাড়ে দশটা

0
123

এম এ কাদেরঃ না ফেরার দেশে চলে গেলেন সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া সাহেব বাড়ীর, জাতীয় পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার সাহেব  ” ইন্না-লিল্লাহ অইন্না ইলাহি রাজিউন”।।

সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার

 তিনি হবিগঞ্জ-৪ (তৎকালীন সিলেট-১৭) আসন থেকে ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে প্রথমবার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারেরমত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে এরশাদের মন্ত্রিসভায় তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার
কৃষি প্রতিমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১৯৮৮ – ১৯৯১
হবিগঞ্জ-৪ আসন আসনের
সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
১৯৮৮ – ১৯৯১
উত্তরসূরী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ
সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতীয় পার্টি
কাজের মেয়াদ
১৯৮৬ – ১৯৮৮
সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতীয় পার্টি
কাজের মেয়াদ
১৯৭৯ – ১৯৮৬
পূর্বসূরী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ
সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম ১৯ জুন ১৯৪০ (বয়স ৮১)
হবিগঞ্জব্রিটিশ ভারত
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি
পেশা রাজনীতি
মন্ত্রীসভা এরশাদের মন্ত্রিসভা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার সাহেব এর জানাযা’র নামাজ  আজ (১২ ফেব্রুয়ারী) শনিবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে সৈয়দ সঈদ উদ্দিন হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হইবে।

প্রারম্ভিক ও ব্যক্তিগত জীবন

কায়সার ১৯৪০ সালের ১৯ জুন হবিগঞ্জের মাধবপুরের ইটাখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ সঈদউদ্দিন ও মাতার নাম বেগম হামিদা বানু। সঈদ উদ্দিন সিলেট-৭ আসন থেকে ১৯৬২ সালে কনভেনশন মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে এমএনএ নির্বাচিত হন৷ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা থেকে জানা যায় কায়সার আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন এবং বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবন

কায়সার ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান মুসলিম লীগের সিলেট জেলা শাখার সদস্য ছিলেন। ১৯৭০ সালের পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে প্রথমে মুসলীম লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদন করেন। পরে আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পর সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর তিনি কিছুকাল রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি পুনরায় সক্রিয় হন এবং ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিলেট-১৭ (বর্তমান হবিগঞ্জ-৪) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেন। এ সময় তিনি হবিগঞ্জ জেলা শাখা বিএনপির সভাপতি হন। ১৯৮২ সালে তিনি বিএনপির শাহ আজিজুর রহমান অংশের যুগ্ম-মহাসচিব নির্বাচিত হন।

এরপর জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন এবং হবিগঞ্জ জেলার শাখার সভাপতি হন। এ দলের প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ নির্বাচন করে তৃতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদে তিনি ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এরশাদের মন্ত্রিসভায় কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দীতা করে পরাজিত হন।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ১১ ফেব্রুয়ারী  শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএসএমএমইউ-তে মর্গ না থাকায় ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সৈয়দ কায়সার সাহেব এর  ছোট ভাই বিশিষ্ট দানবীর, সমাজ সেবার অন্যরকম ব্যক্তিত্ব, গরীব দুখী মানুষের প্রিয় মুখ, বিশিষ্ট  শিল্পপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল সাহেব গণমাধ্যম কে জানান ‘উনি প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উনার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি আরো বলেন, নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার সাহেব এর  নোয়াপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। সৈয়দ মোঃ ফয়সাল সাহেব সকল মুসলমানদের উদ্দেশ্য বলেন, মহরুমের নামাজে জানাজা শরিক হওয়ার জন্য আমি সায়হাম পরিবারের পক্ষ থেকে  সকল’কে দাওয়াত করলাম।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার সাহেব এর জানাযা’র নামাজ  আজ (১২ ফেব্রুয়ারী) শনিবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে সৈয়দ সঈদ উদ্দিন হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হইবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here