একটি ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটল চারটি পরিবারের ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে! একটি ক্লুলেস মার্ডারের ইতিবৃত্ত

0
300

এম এ কাদের,মাধবপুর-চুনারুঘাট ঘুরেঃ প্রায় দেড় বছর আগে ১৭ই জুলাই ২০১৯ সালের বুধবার । চুনারুঘাট থানা পুলিশ সাতছডি জাতীয় উদ্যানের গহীন জঙ্গল থেকে অজ্ঞাতনামা গলায় রশি লাগানো অবস্হায় একটি লাশ উদ্ধার পূর্বক লাশের সুরতহাল করে, লাশের পোস্টমর্টেম সহ বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফনের ব্যাবস্হা করেন।১৮/০৭/২০১৯ইং সুরতহালকারী অফিসার এস,আই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিকে হত্যার দায়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দিলে চুনারুঘাট থানার মামলা নং ১৫ তারিখ ১৮ই জুলাই ২০১৯ ইং ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।মামলাটি এস,আই/আলামিন এর নামে হাওলা করলে, তিনি একমাস তদন্তের পর অন্যত্র বদলী হওয়ায় মামলাটি এস,আই/মলাই মিয়ার নামে হাওলা করেন চুনারুঘাট থানা পুলিশ । তিনি দীর্ঘ এক বছরের বেশী সময় তদন্ত করিয়া নিখোঁজ ব্যাক্তির পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও অজ্ঞাতনামা লাশের সংরক্ষিত ডিএনএ স্যাম্পল ফরেনসিক ল্যাব সিআইডি ঢাকায় প্রেরন করিলে অজ্ঞাতনামা লাশের জৈবিক পিতা মোঃ রহমত আলী মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের বনগাঁও এক্তিয়ারপুর গ্রামের ( লাশ ) আলমগীর বলিয়া জানা যায়।
আলমগীর (১৭) পেশায় একজন টমটম চালক মাধবপুর থানার ৯নং নোয়াপাড়া ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের শাহপুর গ্রামের শশুর বাড়ী এলাকাধীন বসবাস করতেন । লাশের পরিচয় উদ্ঘাটিত হলেও আসামী সনাক্তকরন ছিল কষ্টসাধ্য।
পরে এস,আই/মলাই মিয়া অন্যত্র বদলী হওয়ায় উক্ত মামলাটি গত তিন মাস পূর্বে এস আই মোঃ আব্দুল মোতালেব এর উপর ন্যাস্হ হয়।
এস আই মোঃ আব্দুল মোতালেব মামলার ডকেটটি নিবিডভাবে পর্যবেক্ষণ করে, দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়।
পরে এস আই মোঃ আব্দুল মোতালেব এর অথরিটিকে আশ্বস্হ করে, চলিত মাসেই ভালো একটি রেজাল্ট দিবে ।
তারই ধারাবাহিকথায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যায় জড়িত/অংশ নেওয়া আসামীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার এবং অতিঃপুলিশ সুপার (প্রশাসন) এর তত্বাবধানে
মাধবপুর সার্কেলের সিনিয়র এ,এস,পির দিক নির্দেশনায়, অফিসার ইনচার্জ চুনারুঘাট থানা ও ইন্সপেক্টর তদন্ত চম্পক দাম এর নেতৃত্বে কিলিং মিশনে এস আই মোঃ আব্দুল মোতালেব সংঙ্গী ফোর্স অংশ নেওয়া, মাধবপু থানার বেজুড়া গ্রামের ছফন উদ্দিনের ছেলে মুসলিম মিয়া (২৭), একই থানার খরকি গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে রোকন মিয়া (৩০), বানিয়াচং থানার জাতুকর্নপাড়া গ্রামের মৃত আইয়ূব আলী ওরফে জাহিদ মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (৪০) গনদের গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে দীর্ঘ অভিযান শেষে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ।গত ১৮ইডিসেম্বর আসামী মুসলিম ও ২০ ডিসেম্বর রোকন এবং সুহেল কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সকল আসামীদের আইন ও বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন ।গ্রেপ্তারকৃত আসামীগন ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে নিজ নিজ দোষ স্বীকার পূর্বক ঘটনার/হত্যার বিশদ বিবরন দিয়ে বিজ্ঞ আদালত হবিগঞ্জ ফৌঃকাঃবিঃ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন।
ফৌঃকাঃবিঃ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করার পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয় ।
এব্যাপারে এস আই মোঃ আব্দুল মোতালেব এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ইতি টানার পূর্বে যাদের কথা না বললে নয়। বিশেষ করে আমার সাথে থেকে অপারেশনের কাজে সহায়তা করার জন্য আমার কলিগ এস,আই/ভূপেন্দ্র চন্দ্র বর্মন সহ অপরাপর অফিসার ও ফোর্সদের নিকট কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাই আমার প্রিয় আংকেল অতিঃ পুলিশ সুপার জনাব জসিম উদ্দিন (পিপিএম)
কে, তার বুদ্বিমত্বা ও সোর্সিং সহায়তার জন্য।
অনেক কষ্টের বিনিময়ে ও অনেক টাকার ব্যয় বহুলে এবং আমার পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় উক্ত মামলার আসামীগনদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই ।
একটি ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটল চারটি পরিবারের ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে। তাই আসুন যে কোন কাজ করার পূর্বে একটু হলেও অন্তত সবাই ভেবে চিন্তে করি।
মহান রব সবাইকে এহেন ঘৃন্য কার্য্যকলাপ থেকে হেফাজত করুন আমিন।
এই ঘটনার সকল লোমহর্ষ তথ্য ভিডিও চিত্রে দেখতে ও বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন Firtvonline এর অপরাধ বিষয়ক অনুষ্টান বিজলী তে । উপস্থাপনায় ও পরিচালনায় থাকবেন সাংবাদিক এম এ কাদের ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here