কাউন্সিলর সোহেল ও তার সহযোগী হত্যার ছায়া তদন্তে র‌্যাব-সিআইডি-পিবিআই

0
159
এফআইআর টিভি অনলাইন ডেস্কঃ গুলি চালিয়ে নিজ কার্যালয়ে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যাকাণ্ডের এজহার নামীয় ১১ আসামির মধ্যে অন্তত পাঁচজন রয়েছেন দুধর্ষ সন্ত্রাসী। শুধু খুনই নয় তারা প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের উপর গুলি চালাতেও দ্বিধাবোধ করেন না।
অতীতে এসব সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছেন এমন ঘটনাও এলাকাবাসীর মুখে মুখে। নানা অপকর্মে জড়িত প্রধান আসামি শাহ আলমসহ বেশির ভাগ আসামির বিরুদ্ধেই রয়েছে থানায় মামলা। দেশব্যাপী আলোচিত এ ভয়ানক ঘটনা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব-সিআইডি ও পিবিআই।

 কাউন্সিলর সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুজানগর বউবাজার এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম। তার বিরুদ্ধে হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, মাদক, ছিনতাই, জবরদখল, মারামারিসহ অন্তত ছয়টি মামলা আছে।

১০ বছর আগে শাহ আলমের বাবা জানু মিয়াকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর তার বাবার হত্যাকারীকে তিনি প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ আছে। শাহ আলম একসময় ছাত্রশিবিবের রাজনীতি করতেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক নেতার অনুসারী। দলে তার কোনো পদবি নেই। ২০১৫ সালে মাদক ব্যবসা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তার গোলাগুলি হয়। ওই সময় তিনি জখম হন।

মামলার দ্বিতীয় আসামি নবগ্রাম এলাকার সোহেল ওরফে ‘জেল সোহেল’ শাহ আলমের ঘনিষ্ঠ। তার বিরুদ্ধে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলার তৃতীয় আসামি সুজানগর পানির ট্যাংকি এলাকার বাসিন্দা মো. সাব্বির হোসেন শাহ আলমের বন্ধু। তার বিরুদ্ধেও অস্ত্রবাজি, জবরদখল ও মাদকের মামলা রয়েছে।
সুমন ও সাজন মাদক মামলার আসামি, আশিকুর রহমান রকির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদকের মামলা আছে। অপর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধেও মামলা আছে। অস্ত্রবাজিতে পারদর্শী তাদের কাছে রয়েছে আধুনিক নানা অস্ত্র। এমনটাই বলছেন এলাকাবাসী।
ইতোমধ্যে একটি সিসি টিভির যে ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে তাতে দুই যুবকের হাতে যে অস্ত্র দেখা গেছে তা আধুনিক বিদেশী অস্ত্র। সোহেলের উপর হামলার ঘটনায় মানুষ এগিয়ে এলেও তাদের এলোপাথারী গুলি ছুড়ার কারণে ভয়ে পিছু নেয়।
 
এদিকে, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন গত শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ চিকিত্সাধীন ব্যক্তিদের দেখতে যান।
এ সময় সাংসদ গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বাহাউদ্দিন বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধারের পর বলা হলো, এগুলো সোহেল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে। আমি বলি, একটা অস্ত্রও সোহেল হত্যায় ব্যবহার করা হয়নি। এখানে কোনো ডাব্বা ও পিস্তল ব্যবহার করা হয়নি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অস্ত্র উদ্ধার ও আসামিদের ধরতে হবে।’
র‌্যাব-১১ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা একটা ছায়া তদন্ত করছি। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। এগুলো বিশ্লেষণ করছি। আসামি গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটায় নগরের পাথুরিয়াপাড়া থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলর মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টায় কাউন্সিলর মো. সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ পর্যন্ত এজহার নামীয় ৪ জন আসামি র‌্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here