কুশিয়ারা নদী ভাঙনের ফলে মসজিদসহ অর্ধশতাধিক ঘর বাড়ী ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন !

0
90

মোঃ মতিউর রহমান, আজমিরিগঞ্জ ( হবিগঞ্জ) থেকেঃ হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জে প্রতি বছর কালনী কুশিয়ারা ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয় এ অঞ্চলের অন্তত ৫ সহস্রাধিক মানুষ।আজমিরিগঞ্জ কালনী কুশিয়ারা নদী বর্ষা শুরুতেই নদীর ভাঙন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। নদীর ভাঙানে প্রতিবছরই বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, মসজিদসহ নানা ধরনের স্থাপনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর ভাঙন প্রতিদিন দুই থেকে তিন ফুট করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে ৩০/৪০ টি বাড়ি ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরো অনেক বাড়ি ঘর বিলীনের পথে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা চলতি বছর পুরোদমে বর্ষা শুরু হলে এই ভাঙন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। বাড়িঘরসহ ভূ-সম্পত্তি হারাবে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা। নদীর স্রোত চলতে গিয়ে নদী তীরের বাসিন্দারা প্রতি বছর যাযাবর হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, বিগত দুই / তিন বছরের মধ্যে আজমিরিগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেওয়ের বদলপুর, মনিপুর,বাহাদুর পুর গ্রাম গুলি তীব্র ভাঙনে শত শত ঘরবাড়িসহ নানা ধরনের স্থাপনা বিলীন হয়েছে।

কালনী কুশিয়ারা নদীর দুই কিলোমিটার এলাকা বদলপুর থেকে মণিপুর পর্যন্ত পরিদর্শনকালে ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,আজমিরিগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেওয়ের বদলপুর, বাহাদুর পুর মনিপুরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত এক শ’ ঘরবাড়ি।এদের অনেকেই ঘরবাড়ি নিরাপদে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে নদী-তীরবর্তী এলাকা। এসব মানুষ ঘরবাড়ি ও গবাদি পশু নিয়ে এখন নির্ঘূম রাত কাটাচ্ছে।

বাদশা মিয়া সাংবাদ কর্মী কে বলেন,জাহের আলীর, ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি সব কেড়ে নিয়েছে।মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় বাধ্য হয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চলে যেতে হয়েছে ঢ়াকায়।
মনিপুর গ্রামের নুর জাহান বেগম বলেন, আমার স্বামী দিনমজুরের কাজ করে মানুষের কৃষিজমিতে। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। এর মাঝে নদী যেভাবে বাড়িঘর নিয়ে যাচ্ছে, আমরা কোথায় গিয়ে উঠবো ভাবতে পারছি না।বাহাদুর পুর গ্রামের ঝর্ণা আক্তার বলেন নদী যেভাবে বাড়িঘর নিয়ে যাচ্ছে সরকার যদি একটু উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা ছেলেমেয়ে নিয়ে এখানে থাকতে পারব। আমাদের আর থাকার জায়গা নাই। বদলপুর গ্রামের মঙ্গল সূত্রদর বলেন বস্তা দিয়ে অতি তাড়াতাড়ি নদীর ভাঙন ফিরাইতে হবে।
মুজিদ মিয়া, জয়দর আলী, গোলাপ মিয়া,রাজ্জাক মিয়া,জয়নাল মিয়া, বাদসা মিয়া, তালেব আলী বলেন নদী যেভাবে বাড়িঘর নিয়ে যাচ্ছে, আমরা কোথায় গিয়ে উঠবো ভাবতে পারছি না।

এ ব্যাপারে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাকাইলছেও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে । তিনি বলেন আমি আজকে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে আসছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আট কোটি টাকার প্রোজেক্ট, অনুমোদন হলে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here