কুষ্টিয়া দৌলতপুরে মামলার স্বাক্ষীকে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন আসামী রাসেল

0
114

সাইফউদ্দীন আল-আজাদ,দৌলতপুর ( কুষ্টিয়া) থেকেঃ কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলায় আইনী প্রক্রিয়ায় লড়াই না করেই মামলার রায় নিজের পক্ষে নিতে বাদী ও স্বাক্ষীর পথরোধ করে মামলা প্রত্যাহার করতে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিলেন আসামী আবু সাইদ রাসেল।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া দৌলতপুর থানায় একটি সাধারন ডাযেরী দায়ের করেন বাদীর বাবা ও মামলার প্রধান স্বাক্ষী শাহীন মন্ডল। সাধারন ডায়েরী নং ৫২৭ তাং ১০/৩/২৩ ইং। জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর রাসেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, দৌলতপুর থানার মামলা নং ২৩ তারিখ ৯/৪/২২ ইং যার দৌলতপুর জিআর নং ১৭৪/২২ মামলা দায়ের করেন সানজিদা । যা বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে বিচারাধীন যার নং ১৭০/২২। মামলার ধার্য তারিখে স্বাক্ষী দিতে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে দৌলতপুর উপজেলার জয়রামপুরস্থ বাজারস্থ জনৈক নজিবুল ইসলামের বাড়ির সামনে পৌছালে আবু সাইদ রাসেল ও তার সহযোগীরা বাদীর পথ রোধ করে ও মামলা প্রত্যাহার না করলে খুন জখম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। ইজি বাইক চালক জালাল হোসেন,শিল্পি খাতুনসহ স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে আবু সাইদ রাসেল ও তার সহযোগীরা।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবারসূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল’২০১৭ইং: কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার চক দৌলতপুর গ্রামের আবু সাইদ রাসেলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ঐ গৃহবধু সানজিদা। মেয়ের সুখের কথা ভেবে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের মটরসাইকেল কিনে দেন বাবা। মটরসাইকেল পেয়েও খুশি হতে পারেনি লোভী রাসেল। মাঝে মাঝে নগদ টাকার বায়না ধরে। একাধীক পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রাসেল। পরকীয়ার প্রতিবাদ করলে গত ৪ এপ্রিল-২০২২ইং: রাত ৮ টার দিকে বাটাম দিয়ে সানজিদাকে পিটিয়ে আহত করে আসামি রাসেল। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী স্ত্রী সানজিদা। উপ-পরিদর্শক সুফল সরকার ২১ দিনের মধ্যে তদন্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত/০৩) এর ১১(গ)/৩০ ধারায় অভিযোগ পত্র দায়ের করেন। যার নং ২১৩। এই মামলা থেকে রেহাই পেতে গত বছরের ২৬এপ্রিল ১০ নং দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের আদালতে হাজির হয়ে সংসারের শর্তে আপোস করে ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন রাসেল। আপোষনামা আদালতে জমা দিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েই নাটকীয় রুপ পাল্টে ফেলেন রাসেল।এরপরে ভুক্তভোগী স্ত্রী সানজিদার কোন খোঁজ খবর নেননি রাসেল,এদিকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে স্ত্রীকে ঘরে ফিরিয়ে না নিয়ে উল্টো প্রাণনাশের পরিকল্পনা করতে থাকেন মামলার আসামি আবু সাইদ রাসেল ও তার পরিবার।এমন কৌশল মূলক প্রতারণায় ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত ভুক্তভোগী স্ত্রী অসহায় সানজিদা ও তার পরিবার।সর্বোপরি ভুক্তভোগী স্ত্রী সানজিদা ও তার পরিবারের ব্যক্তিবর্গ আইনের নিকট সহায়তা চেয়ে ন্যায় বিচারের জন্য আবেদন জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here