কোম্পানীগঞ্জে উঠছে পাথর, দিতে হয় চাঁদা

0
115

বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাথর কোয়ারি গুলো থেকে উচ্চ নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সংরক্ষিত রোপওয়ে এলাকায়।

কেবল হাত কিংবা জায়গার পরিবর্তণ হলেও তৈরি হচ্ছে নতুন ক্ষেত্র। পাথর উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। পাথর চাপায় শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় এক পাশ কিংবা কয়েকজন নিয়ন্ত্রক নিষ্ক্রিয় হলেও অন্য পাশে উঠে পাথর আর উত্তোলনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নেন নতুন কেউ।

রোববার (২ মে) সরেজমিনে বেলা ১২টার দিকে রোপোয়ে বাংকার এলাকায় পূর্ব উত্তোর কোনে গিয়ে দেখা যায় আরএনবির সদস্যদের উপস্থিতিতে দুই শতাধিক মানুষ পাথর উত্তোলন করে অর্ধশতাধিক বাকরি নৌকায় ধলাই নদী দিয়ে পাথর পরিবহন করছেন।

এসময় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোপোয়ে (বাংকার) সংরক্ষিত এলাকা থেকে আরএনবি’র সদস্যের মদদে কালীবাড়ি গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়ার নেতৃত্বে প্রতিদিনই চলছে পাথর উত্তোলন। নৌকা প্রতি পাথর উত্তোলনের জন্য রুবেলের মাধ্যমে আরএনবিকে দিতে হয় ২ হাজার টাকা। পাথর উত্তোলনের সময় রুবেল ছাড়াও তার অন্যতম সহযোগী নাজিরগাওয়ের অফিক আহমদ ও ধলাই পশ্চিম পাড় পাড়ুয়া গ্রামের মৃত উছমান আলীর পুত্র মীর হোসেনকেও সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে পাথর পাঠানোর জন্য ১৯৬৪-১৯৬৯ সালে নির্মিত হয়েছিল এ রোপওয়ে। তবে ১৯৯৪ সালের পর থেকে এ পথ বন্ধ থাকলেও নির্বিঘ্নে রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর (আরএনবি) সদস্যদের উপস্থিতিতে হয় পাথর উত্তোলন। তাই বিরামহীন পাথর উত্তোলনের ফলে রোপওয়ের বাঙ্কার হিসেবে পরিচিত এ ভূমিটিও এখন ধলাই নদীর ঠিক মাঝখানেই অবস্থান করছে। মোট ৪২ একর থেকে মাত্র ১২ একরের মতো জায়গা থেকে বাকিটা পাথর উত্তোলনের ফলে নদীগর্ভেই বিলীন হয়েছে।

এক সময় উপজেলা চেয়ারম্যান শামিম আহমদ বাঙ্কারে ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও এখন ত্রাসের সাম্রাজ্য গড়া কেফায়েত, বিল্লাল, আলীম উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন এরা মিলেই গিলে খাচ্ছেন রেলওয়ের এ ভূমি। আর তাদের সকলের মিডিয়াম্যান হিসেবে প্রশাসন ম্যানেজ করেন তাজুল ইসলাম ওরফে পরিবেশ মোল্লা। কিন্তু সম্প্রতি শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে তারা সবাই নীরব থাকায় পূর্ব উত্তোর পাড়ে ভাগ বসাচ্ছেন অন্যরা।

গত ১৫ এপ্রিল ভোরে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ের সংরক্ষিত এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনকালে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকা উল্টে জহিরুল আলম (২৪) নামের এক শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের মা রিনা বেগম বাদী হয়ে রাসেল আহমদ, ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাহাব উদ্দিন ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা কেফায়াত উল্লাহকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার পর থেকে তারা সবাই অনেকটা নীরব।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন- ৪) মীর আলমগীর হোসেনের সাথে সিলেট ভয়েসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি সামগ্রিক বিষয় শুনে আরএনবি ইনচার্জের নাম জেনে নেন এবং এখনই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিচ্ছেন বলে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here