ঢাবি শিক্ষার্থী এলমার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরাদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

0
177
স্টাফ রিপোর্টারঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, নৃত্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী এলমা চৌধুরীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা এ মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন । বুধবার ১৫ ডিসেম্বর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিত বাংলার সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে এমন দাবি করেন তাঁরা।

মানববন্ধনে রেজওয়ানা চৌধুরী বলেন, ‘এলমার স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। স্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকলে তাঁর শরীরে এত দাগ থাকবে কেন? হাসপাতালে যাওয়ার পর তাঁর এ দৃশ্য দেখে আমি মানতে পারছি না। তাঁর স্বামীকে দেখে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে এবং তাঁর কথাবার্তা খুবই অসংলগ্ন। নৃত্যকলা বিভাগের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’ শিক্ষার্থীদের নিজেদের জীবনের সিদ্ধান্ত ‘ভেবেচিন্তে’ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এলমার পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন। তাঁকে মানসিকভাবেও নির্যাতন করা হয়েছে। এটি খুবই মর্মান্তিক। এটি স্পষ্ট একটি হত্যা। আমরা এ ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত দাবি করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এলমার পরিবারের পাশে আছে।’

কলা অনুষদের ডিন আবু মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এলমার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি শুধু মর্মান্তিক নয়, নৃশংসও বটে। আমরা এর দ্রুত বিচার দাবি করছি। আমাদের দেশে বিচারপ্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ হয়। এলমার স্বামী প্রভাবশালী বলে আমরা জেনেছি। অনেক সময় প্রভাবশালী হওয়ার কারণে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হয় না। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে প্রত্যাশা রাখি।’

এলমার বিভাগের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এলমা খুবই বন্ধুসুলভ ছিল। রক্ষণশীল এক প্রবাসী ব্যক্তির সঙ্গে ফেসবুকে পরিচিত হয়ে ঘরোয়াভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর আমরা দেখতে পাই যে সে তাঁর স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। আমাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে তাঁর স্বামী তাকে বাধা দিত। সে ঘর থেকেও বের হতে পারত না। বের হলেও তাঁর সঙ্গে একজন গার্ড (পাহারাদার) দিয়ে রাখতেন এবং সে কোথায় কী করছে, তার সবকিছু স্বামী ভিডিও কলের মাধ্যমে তদারক করত।’

এলমার মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল তাঁর স্বামী ইফতেখার আবেদীনকে আটক করেছে পুলিশ। ইফতেখার কানাডাপ্রবাসী। গত রোববার তিনি ঢাকায় ফেরেন। রাজধানীর বনানীর একটি বাসায় থাকেন তাঁরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here