তৃণমূলে শক্তিশালী সংগঠন থাকায় করোনা মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে-প্রধানমন্ত্রী

0
28

এফআইআরি টিভি অনলাইন ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সংগঠন থাকায় করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সময় আমাদের দলের লোকেরা এবং দলের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, আমরা কিন্তু আর কোন রাজনৈতিক দলকে এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখিনি। মূলত কেউ দাঁড়ায় নাই, তাদের কোনো আগ্রহও ছিল না। হ্যাঁ প্রতিদিন টেলিভিশনে বিবৃতি দেওয়া, যেখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করা ছাড়া আর কোন কাজ ছিল না। তাদের ওই একটাই কাজ ছিল আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করা।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সরকারি বাসভবন গণভবনে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ৫৩ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কখনও একটা সরকারের পক্ষে এককভাবে এরকম পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব না, আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে একটাই কারণে আমাদের শক্তিশালী সংগঠন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আছে। আর এটা আছে বলেই আমরা এটা করতে সক্ষম হয়েছি। এটা আমার বিশ্বাস।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, করোনার কারণে আমরা দীর্ঘদিন বসতে পারি নাই। এখন করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ,তাছাড়া ভ্যাকসিনেশনও শুরু হয়েছে। গতবার যেহেতু জাতিসংঘে যেতে পারিনি। এবার জাতিসংঘে যাওয়ার একটা সুযোগ রয়েছে। আমাদের নির্বাচনও সামনে সংগঠনটা করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠনের প্রত্যেকটা নেতাকর্মী নিজ নিজ এলাকাসহ সব জায়গায় খুব ভালোভাবে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানই খুব আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছে। তবে কখনও একটা সরকারের পক্ষে এককভাবে এরকম পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব না। আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে একটাই কারণে আমাদের শক্তিশালী সংগঠন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আছে, আর এটা আছে বলেই আমরা এটা করতে সক্ষম হয়েছি, যেটা আমার বিশ্বাস।

তিনি আরও বলেন, এককভাবে শুধুমাত্র সরকারি লোক দিয়ে সবকিছু করা সম্ভব হয় না। তারাও করেছে আন্তরিকতার সঙ্গে। আমাদের প্রশাসনের যে যেখানে ছিল বা আমাদের পুলিশ বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, আনসার বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মীর তারা আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছে। প্রথম দিকে একটু ভীত ছিল, তারপর অনেক প্রণোদনা দিতে হয়েছে, অনেক উৎসাহ দিতে হয়েছে, আমরা নিয়োগও দিয়েছি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ভ্যাকসিন কেনার ব্যাপারে সবার আগে উদ্যোগ নিয়েছি। হ্যাঁ একটা সময় বিপদ হয়ে গেছিল যে ভারতে এমন ব্যাপকভাবে দেখা দিল যে কারণে ওরা আর আমাদের ভ্যাকসিন সাপ্লাই দিতে পারছিল না। তারপর আমরা পৃথিবীর যেখান থেকে পারি সেখান থেকে সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। এখন আর সমস্যা হবে না। এখন আমরা নিয়মিত পাব এবং দেশের মানুষকে দিতে পারব।

তিনি বলেন, মানুষের কাজের সুযোগ ছিল না, ঘরবন্দি ছিলাম, খাবারের অভাব। সেই সময় আমাদের দলের নেতাকর্মীরা প্রত্যেকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে। আমরা কত মানুষকে যে হারালাম। এমন কোনো দিন নেই যে মৃত্যুর সংবাদ না আসতো। একটা কথাই বলব আওয়ামী লীগ সরকার আছে বলেই দেশের উন্নতি হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বলেই এই করোনা মোকাবিলার সম্ভব হয়েছে, আওয়ামী লীগ আছে বলেই অন্তত মানুষ সেবাটা পাচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতা আছে। যারা আমাদের সমালোচনা করে তাদেরকে বলব অতীতে আমাদের দেশে কি অবস্থা ছিল ৭৫ পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কি অবস্থাটা ছিল সেটা যেন তারা একটু উপলব্ধি করে। তবে কিছু ভাড়াটে লোক তো আছেই সব সময় মাইক লাগিয়ে বলতেই থাকবে।

তিনি আরও বলেন, যে যা বলে বলুক। আমাদের নিজেদের আত্মবিশ্বাস আছে, সেই বিশ্বাস নিয়ে চলি। আমরা আমাদের দেশটাকে যে গড়ে তুলবো ২০০৮ সালের নির্বাচনের ইশতেহারে যে ঘোষণা দিয়েছিলাম ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসব, আমরা সেটা করতে পেরেছি। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। জাতিসংঘের কর্মসূচি এসডিজি সেটাও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। সেই সাথে আমাদের নিজেদের কর্মসূচি বাংলাদেশকে ঘিরে ২০৪১ সালের মধ্যে কেমন বাংলাদেশ দেখবো, সেই প্লানও করেছি সেটা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সেই সাথে ডেল্টা প্ল্যান করেছি অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আশু করণীয় সেভাবে কাজ করছি। যার সুফল দেশে মানুষ পাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here