নাসিরনগরে মিথ্যা খুনের মামলা দিয়ে সাংবাদিক ও তার পরিবারের লোকজনকে হয়রানী

0
75

স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে এশিয়ান টেলিভিশন ও দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার নাসিরনগর উপজেলা প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের নাসিরনগর উপজেলার সভাপতি মোঃ আব্দুল হান্নান ও তার পরিবারকে মিথ্যা খুনের মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে গত ২৬ এপ্রিল ২০২২ রোজ মঙ্গলবার বেলা অনুমান আড়াই ঘটিকার সময় লঙ্গন নদীর পাড় আশুরাইল পশ্চিম পাড়ের মৃত রাজু মিয়ার ছেলে মোঃ সারাজ মিয়ার কাটা ধান বাড়িতে নিয়ে দেয়ার জন্য শ্রীঘর গ্রামের চাচুয়ার পাড়ের তাজুল ইসলামের ছেলে জুনাইদ মিয়ার সাথে চুক্তি করে।জুনাইদ প্রতি ট্রাকের ভাড়া বাবদ ৬ শত টাকা আর সারাজ মিয়া ৫ শত টাকা করে দিবে নদীর পাড় থেকে সারাজ মিয়ার বাড়িতে নিয়ে দেয়ার কথা বলে দরকষাকষির এক পর্যায়ে দু জনেন মাঝে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পাশে তাকা আশুরাইল গ্রামের মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে জালাল মিয়া দৌড়ে এসে সারাজ মিয়ার পক্ষ নেয়।এই নিয়ে ৩ জনের মাঝের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এই নিয়ে নদীর পাড়ে থাকা আশুরাইল উভয় গ্রামের লোকজনের মাঝে সংর্ঘষ বাধে। প্রায় আধা ঘন্টা ব্যপী সংর্ঘষে দুই গ্রামের প্রায় ২০ জন আহত হয়।

নদীর পাড়ে দুই গ্রামের সংর্ঘষ চলাকালে সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নান নাসিরনগর সদরে থানার সামনে রাজিব কম্পিউারে বসে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ঈদ উপলক্ষে গরীবদের মাঝে ঘর বিতরণের সংবাদ লিখায় ব্যস্ত থাকা অবস্থায় মোবাইলে দুইগ্রামের লোকজনের মাঝে ঝগড়ার খবর আসে।সাংবাদিক আব্দুল হান্নান সাথে সাথে মোবাইল ফোনে ঝগরার বিষয়টি নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ সরকারকে জানালে তিনি পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এ সময় সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নান ঘটনাস্থলে গিয়ে তার নিজের মোবাইল থেকে ঝগড়ার লাইভ দেন।

সংঘর্ষে চলাকালীন সময়ে শ্রীঘর গ্রামের জুনাইদের চাচা মৃত সানু মিয়ার ছেলে নায়েব উল্লাহ (৪৫)তার গ্রামের বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২ কিঃমিঃ দুর থেকে প্রচন্ড গরমের মধ্যে দিয়ে দৌড়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মারামারি করার জন্য ঘটনাস্থলে আসা মাত্রই হার্টএ্যাটাক করে মৃত্যু বরণ করে।পরে নায়েব উল্লাকে নাসিরনগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

খবর পেয়ে সরাইল নাসিরনগর,আশুগঞ্জ সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আনিছুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্ষনে আসেন।এ সময় এ সময় ওসি,সার্কেল,ডাক্তার মিলে সাংবাদিক আব্দুল হান্নানকে সাথে নিয়ে নিহতের শরীরর বিভিন্নভাবে পরীকা নিরিক্ষা করেন এবং এ সময়  সাংবাদিক আব্দুল হান্নান অডিও ভিডিও ধারন করেন।নিহত নায়েবুল্লার শরীরের কোথাও কোনরূপ আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি উপস্থিত সময়ে বিষয়টি কর্তব্যরত ডাক্তার মৌখিক ভাবে প্রকাশ করেন ।

নায়েবুল্লার নিহতের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোঃ আশিক মর্তুজা সীমান্ত বলেন প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে নায়েব উল্লাহ হার্টএটাকে মারা গেছে। প্রয়োজনীয় পরিক্ষা নিরিক্ষা ও ময়না তদন্তের জন্য লাশ ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

পরে ওই ঘটনায় ৪৯ জন অজ্ঞাত নামা আরো বেশ কয়েক জনকে আসামী করে নিহত নায়েববুল্লার ভাই বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।ওই মামলায় সাংবাদিক মোঃ আব্দুল হান্নানকে ৫ নাম্বার আসামী করা হয়েছে।সাংবাদিক ছাড়াও তার পরিবারের বড় ভাই মোঃ ফরিদ মিয়াকে ৬ নাম্বার আসামী সহ তার ছোটভাই সাফু মিয়াকেও আসামী করা হয়েছে।

এই ব্যাপারে সাংবাদিক আব্দুল হান্নান বলেন, ঘটনার সংবাদ শুনার পর থেকে আমি সংবাদ সংগ্রহ করা জন্য প্রশাসনের সাথে ঘটনাস্থলে যাই এবং আহত ব্যক্তিকে নাসির নগর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার সময়ও আমি উপস্থিত ছিলাম। আমার কাছে বড় অভাব লেগেছে প্রশাসনের সাথে থাকার পর আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের কিভাবে আসামি করে মামলা রেকর্ড করেন। এই যদি দেশের আইনের প্রক্রিয়া হয় তাহলে সংবাদ কর্মীসহ সাধারণ মানুষ কিভাবে বাঁচবে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। এবং আমি আমার পরিবারের হয়রানি থেকে মুক্তি চাচ্ছি। মিথ্যা খুনের মামলার অজুহাতে আশুরাইলের আর কোন নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার বা হয়রানী না করতে পুলিশের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল শ্রীঘর দুই গ্রামের ঝগড়ায় হার্টএ্যটাকে মারা যাওয়া নায়েবুল্লাহর মিথ্যা খুনের মামলার বাদী তার আপন ভাই সাজু মিয়ার ছেলে বোরহান উদ্দিন তার আপন চাচী( নায়েবুল্লার আপন ভাতিজা) নায়েবুল্লাহ প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে নায়েবুল্লাহর স্ত্রী চার সন্তানের জননীকে ভাগিয়ে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায়।আজও তারা পলাতক রয়েছে।ওই ঘটনায় নায়েবুল্লাহ প্রবাসেই হার্টএ্যটাক করে।পরে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়িতে চলে এসে আবার দ্বিতীয় বিয়ে করেন।ঘটনার প্রায় দশ দিন পূর্বেও নায়েবুল্লাহ হার্টএ্যাটাক করে শহরের একটি হাসপাতালে আইসিওতে ছিলেন।এ ঘটনা গুলো পুলিশকে খুঁজে বের করার পাশাপাশি মিথ্যা খুনের মামলার অজুহাতে আর কোন আসামীকে গ্রেপ্তার বা হয়রানী না করার জন্যও পুলিশকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি।খুন বা হত্যা প্রমানিত হওয়ার পর আসামী গ্রেপ্তারের দাবী জানাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here