নাসিরনগরে সালীশকারকদের রায় শুনে ব্রেইনষ্টোক করেছে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা 

0
103

মোঃ আব্দুল হান্নান, নাসির নগর থেকেঃ ব্রাহ্মণ্যবাড়ীয়া জেলার নাসির নগর উপজেলায় নিজের নির্দোষ পুত্রকে গরু চোর বানিয়ে ৫ দিনের ভেতরে এনে প্রভাবশালী মাতাব্বরদের সামনে উপস্থিত করার কথা বলে স্থানীয় চেয়ারম্যান সহ গ্রামের বেশ কয়েক জন প্রভাবশালী মাতাব্বর মিলে ৮০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধের নিকট থেকে ভয়ভীতি প্রর্তশন করে ১৫০ টাকার অলিখিত ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সালীশে ওই বৃদ্ধের নিকট নগদ ২ লক্ষ টাকা দাবী করলে ওই কথা শুনে সাথে সাথেই ব্রেইনষ্টোক করে মাঠিতে পড়ে গিয়ে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ঐ বৃদ্ব৷ তার নাম মোঃ নুর মিয়া (৮০)।  বযস্ক মুরুব্বী নুর মিয়া প্রতিবেদক কে  জানান, সালীশে বসিয়ে গ্রামের জুয়ারী মোঃ মলাই মিয়া উপস্থিত সালীশকারক, সর্দার মাতাব্বরগনের সামনে তাকে বেইজ্জতি করে চেয়ার থেকে নামিয়ে মাঠিতে বসতে দেয়।

ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাপড়তলা ইউনিয়নের খান্দুরা গ্রামে।ঘটনার বিবরণে জানা গেছে সম্প্রতি,খান্দুরা গ্রামের সবুর হোসেনের পুত্র মোঃ আপ্তুর হোসেনের ২ টি গরু চুরি হয়।চুরির রাতে নুর মিয়ার ছেলে মোঃ হিরাজ মিয়া (২৩) বিদেশ যাবার উদ্দেশ্যে জেলার কসবা উপজেলার কসবা গ্রামের মোঃ ফাহাদ মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হিরাজ মিয়া রাতে সেখানেই অবস্থান করছিলেন বলে হিরাজ মিয়া ও ফাহাদ মিয়া জানায়।

পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার গরু চুরির বিষয়ে সালীশের কথা বলে লোকজন ডেকে জড়ো করে নুর মিয়াকে সেখানে নিয়ে উপস্থিত করে সালীশকারকদের কাউকে কোন কথা বলতে না দিয়েই নুর মিয়ার নিকট নগদ ২ লক্ষ জরিমানার টাকা দাবী করেন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনসুর আহমেদ ভুইয়া। নুর মিয়ার মেয়ে আফিয়া খাতুন,ছেলে হিরাজ মিয়া ও নুর মিয়ার বিয়াই সহ আরো অনেকেই এ তথ্য জানান।

চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী সর্দারদের এমন অন্যায় আবদার ও রায়ের কথা শুনে সাথে সাথেই ব্রেইনে মারাত্বক আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ব্রেইনষ্টোক করে নুর মিয়া।তখন উপস্থিত লোকজন তাকে নাসিরনগর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসলে নুর মিয়ার অবস্থা আশংকাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক খন্দকার মোঃ আব্দুল কাইয়ুম,মোঃ নুর মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন।সেখানে নিয়ে নুর মিয়াকে সিনিয়র কনসালটেন্ট)(কার্ডিওলজি) ডাঃ মোঃ ফেরদৌস রহমানের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হয়। ডাক্তার মোঃ ফেরদৌস নুর মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান,মোঃ নুর মিয়ার পরিবারের লোকজন।বর্তমানে নুর মিয়া মৃত্যুর সাথে পাঞ্জায় লড়ছে বলে তার পরিবার সুত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে চাপরতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনসুর আহমেদ ভূইয়ার সাথে যোগাযোগ করে অলিখিত ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি,যুবলীগ নেতা নাজিম,গরুর মালিক আপ্তুর হোসেন ও সর্দার মলাই মিয়া অলিখিত ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার কথা স্বীকার করে।একজন চেয়ারম্যান সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা করতে পারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মনসুর বলেন, আমি জানি সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা।তাহলে আপনি ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করলেন কি ভাবে, প্রশ্নের উত্তরে চেয়ারম্যান মনসুর বলেন কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তির জন্য এমন রায় করতে হয় বলে জানান,চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here