‘পুলিশ জনগণের বন্ধু, সাধারণের ভরসাস্থল’ পর্ব-০১

0
31
স্টাফ রিপোর্টারঃ আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন বাঙ্গালী আর স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী। তার পরও আমরা কতটা স্বাধীন ভাবে বসবাস করতে পারি তা বলার বাকী থাকেনা। আমরা যখন স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা ভুগে মায়ের কোলে মাথা রেখে শান্তির ঘুম ঘুমিয়ে পড়ি, ঠিক সেই সময়ে আমাদের শান্তির ঘুম নিশ্চিত করতে কে আমাদের সেবা দেয়?  সেই সেবা কারী দলের নাম পুলিশ। আমরা যখন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি তখন সব চেয়ে বেশি সহকারী বা বন্ধু যে হয় সেই মানুষটার নাম পুলিশ। আমাদের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে দিন রাত সীমাহীন পরিশ্রমে দায়িত্ব পালন করে যারা তারা হলে জনগণের বন্ধু যার আরেক নাম পুলিশ।

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অপরাধ দমনে গত কয়েক বছরে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশ পুলিশ। পেশাদারিত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই অভাবনীয় সাফল্য তাঁদের। তবে দেশের পুলিশের সাফল্য যেমন আছে তেমনি পাল্লা ভারি ব্যার্থতারও। এখনো পুলিশের জনসংশ্লিষ্টতা নিয়ে আছে প্রশ্ন। সাধারণ জনগণের কতটুকু ভরসাস্থল পুলিশ তা নিয়েও অনেকের সংশয়।

বাংলাদেশ পুলিশ কতোটা জনগণের বন্ধু হতে পারল, এমন পথে কী বাধা, আর কেমন পুলিশ চায় জনগণ ?

বাংলাদেশে পুলিশে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা আগের চেয়ে অনেক ভালো্, সেটি সকলেই স্বীকার করবেন। কিন্তু এখনো তারা কাঙিক্ষত মানে পৌঁছাতে পারেননি। এখনো প্রায়শই পুলিশের ভেতরের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার খবর আমরা পাই, যা সাধারণ নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে পারে না। আমি এর তিনটি কারণ দেখতে পাই। প্রথমত পুলিশ বাহিনীতে যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন তাদের ডিউটির সময়ে প্রতি খেয়াল করলে বেতন ভাতা অপর্যাপ্ত। ফলে জীবনধারণের জন্য তাঁদের বাঁকা পথে হাটতে হয়। দ্বিতীয়ত রাজনৈতিক কারণে পুলিশে নিয়োগ। যাঁরা রাজনৈতিক ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন তাঁরা অনেক বেশি স্বেচ্ছাচারী এবং দুর্বিনীত হন। তাঁরা বড় কর্তাদেরও পরোয়া করেন না। তবে তৃতীয় কারণটিই সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। এটি হচ্ছে, যে আইনের অধীনে পুলিশ পরিচালিত হয় সে আইনটি ১৮৬১ সালে প্রণীত এবং সেটি একটি ঔপনেবিশেক শাসনামলের আইন, যেখানে পুলিশেকে একটি নিয়ন্ত্রণকারী কতৃপক্ষ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এটি বাংলাদেশের মতো স্বাধীন এবং অগ্রসরমান দেশের জন্য নিয়ন্ত্রণকামী আইন প্রযোজ্য হতে পারে না। সেখানে প্রয়োজন হচ্ছে সেবাধর্মী আইন।কয়েকবছর আগে এই আইনটি পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।একটি খসড়া তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেটি কোনো কারণে হিমাগারে পড়ে আছে। যদি ওই আইনটি কার্যকর হয় এবং পুলিশ একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, তাহলে তার অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যাবে। কারণ সেই আইনে তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, তাদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, এগুলোর প্রস্তাবনার পাশাপাশি তাঁদের নিবিড় তত্ত্বাবধান গুরুত্বের সঙ্গে দেখানো হয়েছে এবং পুলিশের জবাবদিহি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এটি হলে আমি মনে করি পুলিশ আরও জনবান্ধব হবে। তবে তার আগেই পুলিশের সকল পর্যায়ের সদস্যদের এটি ভাবতে হবে একটি দেশের পুলিশের ওপর মানুষের ভরসা সবচেয়ে বেশি। পুলিশ এবং আদালতের ওপর। পুলিশ যদি সত্যিকার ভাবে সক্রিয় হয় মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং যদি অপশাসন, দুর্নীতি এগুলো পুলিশ না করে, এই প্রত্যয় যদি তাদের থাকে তাহলে মানুষের সমর্থনে পুলিশ এগিয়ে যেতে পারবে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ পুলিশের সেই সক্ষমতা আছে। আমি খুব আনন্দিত হই যখন দেখি মেধাবী ছাত্রছাত্রী পুলিশে অংশগ্রহণ করছে পুলিশে নিয়োগ পাচ্ছে। যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ কাজ করছেন তাঁদের মধ্যেও পুলিশ বাহিনীকে একটি সক্রিয় বাহিনীতের পরিণত করার একটি প্রচেষ্টা আমি লক্ষ্য করি। এতে আমি আশাবাদী যে আগামীতে পুলিশ বাংলাদেশের একটি চমৎকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। আজ থেকে পাঁচ বছর আগের পুলিশ আর এখনকার পুলিশের মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। বাংলাদেশে মানুষের কনফিডেন্ট লেভেলটা বেড়েছে। পুলিশ এখন মানুষের কাছে অথাৎ জনসেবায় এগিয়ে আসছে। এমন একটা সময় ছিল ২০১৩ তে পুলিশের ওপর যে হামলা হয়েছিল তখন পুলিশের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা বেড়ে গিয়েছিল। পরে পুলিশ কিছু গণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর বিশেষ করে যাঁরা উর্দ্ধতন পর্যায়ে আছেন তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি পেশাদ্বারিত্ব অনেক বেড়েছে। এটা আমার উপলব্ধি। এবং সম্প্রতি কিছু কাজ দেখলে বোঝা যায় তাঁদের দক্ষতা বেড়েছে। আর কমিউনিটির সঙ্গে পুলিশ খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে মিলে গেছে। এটা একটি ইতিবাচক দিক, যা আমরা বর্হিবিশ্বে অনেক উন্নত দেশে দেখি। পুলিশ কীভাবে মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে। অফিসার পর্যায়ে চিন্তার একটা পরিবর্তন ঘটেছে। কীভাবে অধিক সেবা দিতে পারে, পেশাদারিত্ব দেখাতে পারে সেদিকে নজর আছে। দুএকটি দুর্ঘটনা, দু একটা সেটি তো আছে, আমাদের সব স্তরের যা আছে। তবে পুলিশের বড় আকারে বদনাম যা ছিল সনাতনি ধারায় তার অনেকগুলো কেটে গেছে। এখন একটা ভালো দিকে যাচ্ছে। হয়তো আর পাঁচ বছর পর বাংলাদেশ পুলিশও খুব আস্থার সঙ্গ ভালো একটা অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে। পুলিশের সহায়ক যে উপাদানগুলো লাগে, তাদের কাজকর্মের জন্য যে উপাদানগুলো দরকার ওই মাত্রায় পুলিশের এখনো নাই। প্রতিটি উপজেলায় থানায় একটা গাড়ি তাই দিয়েই পুলিশ কোনোভাবে চলে। তাও এখন কিছু সংযোজন ঘটেছে। একসময় এটাও ছিল না। এখন আরও উপরে উঠতে হবে। পুলিশের লজিস্টিক এখনো আমাদের দেশে খুব ভালো মাত্রায় পৌঁছুতে পারেনি। শুধুমাত্র ঢাকাকেন্দ্রিক কিছু চোখে পড়ে। ঢাকা, মেট্রোপলিটান অপর এলাকাগুলোতে এমন দেখা যায়। কিন্তু অন্যকোথায় এর তেমন সম্প্রাসারণ ঘটতে পারেনি। আমি একটা বিষয় দেখলাম এখনো পুলিশকে দীর্ঘ সময় ডিউটি পালন করতে হয়।এই দিকও একটু রিভিউ করা প্রয়োজন, আমরা একটা মানুষকে একটানা কতক্ষণ অন ডিউটি রাখব। এটাও আমার মনে হয় বিবেচনা করা উচিত। এখন হয়তো ১২ ঘণ্টা ১৩ ঘণ্টা ডিউটি করে, এটি কমিয়ে ৮ ঘণ্টা বা ৯ ঘণ্টায় নিয়ে আসলে তাঁর কর্মদক্ষতা ভালো আসবে। আরেকটা বিষয় হলো এই চাকরিতে কোনোক্রমেই যাতে তদবিরের মাধ্যমে না হয়, এখানে শারীরিক বা অন্যান্য বিষয়গুলো দেখে যদি নেওয়া হলে তাদের পেশাদারিত্বটা অন্তত বাড়বে। এরা যেহেতু কমিউনিটির সঙ্গ এনগেজড হয়ে মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করতে হয় তাই সংবেদনশীলতার জায়গাটা আরও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। উদাহরণস্বরুপ একজন মানুষ অ্যাক্সিডেন্টে পড়ল অন্যান্য মানুষ দূরে পালিয়ে গেল, পুলিশ যখন এগিয়ে এসে এই উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করল তখন তাঁদের মধ্যে মানবিক দিকটা ভালোভাবে কাজ করল। একটি মোটরসাইকেল অ্যাকসিডে্ন্টে পুলিশের এগিয়ে আসা দেখে আমার মনে হলো পুলিশের মধ্যে বিষয়টি চলে এসেছে। পুলিশের মধ্যে তো দুটি বিষয় আছে একটি হলো আ্নি প্রয়োগ করার ক্ষমতার ব্যবহার। এই বিষয়টি তাঁদের মধ্যে আছে। আমরা আরও চাই, পুলিশ যেন স্বতস্ফূর্ত হয়েও কিছু করতে পারে। আইন কাঠামোর মধ্যে তারা যেন এই কাজগুলো করতে পারে। মানুষের জন্য ভালো কাজ করতে পুলিশ যেন অন্যের দ্বারা প্রভাবিত বা নিরুৎসাহিত না হয়। তাহলেই মানুষের বন্ধু হতে পারবে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থলগুলো খুব বেশি থাকে না। সেক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাঁদের একটা বড় ভরসাস্থল হতে হবে। ক্ষমতাধর, বিত্তশালী বা প্রভাবশালী মানুষ যদি আইন শঙ্খলা বাহিনীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এবং পুলিশ যদি তাঁদের হয়ে কাজ করে, তাহলে সাধারণ মানুষ এই সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। একই সঙ্গে এটি বড় গুরুতর অপরাধ হবে। এটি একই সঙ্গে খারপ কাজ ও একটি পাপ হবে। সাধারণ মানুষকে রক্ষা দিতে পারে পুলিশ। এটিই আমরা চাই। সাধারণ মানুষের কথাই আমরা বেশি বলব। সাধারণ মানুষের প্রথম এবং প্রধান আশ্রয়স্থল হয় যেন পুলিশ। সরকারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এতে নজর দেয় তাহলে একটি ভালো সমাজ আমাদের হবে। প্রভাশালী নয় যাঁরা সাধারণ মানুষ তাঁরা যেন আইনের রক্ষাকবচ পায়।

আমাদের দেশের পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বা পুলিশ জনগণের কাছে কতটুকু পৌঁছাতে পেরেছে তা আমি যদি এক কথায় বলি সেই আস্থা মানুষ পুলিশের ওপর রাখতে পারেনি এবং মানুষের কাছেও পুলিশ পৌঁছাতে পারেনি। পুলিশের হয়তো অনেক সাফল্য আছে। তবে মানুষের সংশ্লিষ্টতা বললে সেখানে এখনো ঘাটতি আছে। কোনো নাগরিক যখন পুলিশের কাছে সেবার জন্য যেতে চায়, তখন তারা মনে করে পুলিশের কাছে যাওয়া মানে আবার কোনো বিপদে পড়ি কিনা। এই বিষয়টি সবচেয়ে নেতিবাচক বিষয়, আবার গিয়ে কোনো বিপদে পড়েন কিনা। সবাই আবার এই বিষয়টি নিয়ে বলার সাহস দেখান না। মাঠপর্যায়ে অনেক কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, হয়তো কখনো পুলিশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের আমরা পুলিশের সমালোচনা করেছি। তখন কিন্তু জনগণ আমাদের পাশে দাঁড়ায়। এমন দেখা গেছে আমি হয়তো পুলিশের কোনো কর্মকর্তা অথবা পুলিশ সদস্য বা কনস্টেবলকে কোনো কিছু বললে তারা শোনে। তবে যখন আমি সহকর্মীদের এই কথা বলি তখন তারা বলে, আমরা বললে আমাদের কথা তো শুনবে না। ফিজিক্যালি বা যেকোনো কারণে হোক আপনার একটি অবস্থান আছে বলেই তারা আপনার কথা শোনে। আমি এখানেই মনে করি পুলিশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। তাদেরকে আরও বেশি পিপল ওরিয়েন্ট হতে হবে। আমাদের পুলিশ অনেক ব্যস্ত। তাদের অনেক কাজ। ওই বিষয়টিও আমাদের স্মরণে রাখতে হবে। তারপও তাঁদের চেষ্টা করা উচিত একজন সাধারণ মানুষ যখন তাদের কাছে তখন তাঁকেই বরং বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কিন্তু তাঁর সময়ের অভাব প্রটোকল করত করতে শেষ। এমন কতগুলো কারণ আছে যেগুলো অপ্রয়োজনীয়। একজন এমপি তাঁর জেলায় যাবেন, উপজেলায় যাবেন, যেখানে যাবেন তাঁর রিসিভ থেকে বিদায় নেওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় থাকা তাঁকে সার্বক্ষনিক সময় দেওয়া। একটা পুলিশের কর্মকর্তা তাঁকে যদি এমন সময় দিতে হয় তাহলে সে আর অন্য কাজ কখন করবে। তখন দেখা যায় একজন নাগরিক তাঁর কাছে যে সুবিধা পাওয়ার কথা তা পাচ্ছে না। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে আমি সেই সুবিধা চাইব কারণ তা আমার প্রাপ্য। কারণ ওই মন্ত্রী, এমপি তিনিও এই দেশের নাগরিক। তিনিও ট্যাক্স দেন, কিন্তু আমিও কিন্তু ট্যাক্স দেই। আমার ট্যাক্সের টাকায়ও কিন্তু পুলিশ প্রশাসন চলে, বেতন ভাতাদি পায়। তাই আমার তো অবশ্যই আকাঙ্ক্ষা থাকবে যেন আমি পুলিশের কাছে গেলে তারা যেন আমার কথার শোনে। আমাদের যেপরিমাণ যথেষ্ট সংখ্যক পুলিশ আছে। তাঁদের কর্ম তাঁদের চার্টারড অব ডিউটি ঠিক করতে হবে। এখন দেখা যায় পুলিশ নয় চার্টার্ডের ডিউটি নিয়েই ব্যস্ত। একটি জেলায় কিন্তু প্রটোকল পাওয়ার মতো বহু লোক আছে। তাঁদের যদি প্রটোকল দিতে হয়, তাহলে কিন্তু আর সময় থাকে না। তাই প্রথমেই চার্টারড অব ডিউটিতে পুলিশকে ঠিক করতে হবে কতটুকু জনগণ সংশ্লিষ্ট কাজ তারা করবে। আর এসব প্রটোকল যা অপ্রয়োজনীয় সেগুলোতে কতটুকু সময় ব্যয় করবে। পুলিশকেই এটি নির্ধারণ করত হবে। আমি আপনি নির্ধারণ করতে পারব না। পুলিশককে আরও সতর্ক হতে হবে, প্রোঅ্যাকটিভ হতে হবে আমি হচ্ছি জনগণের পুলিশ, আমি শুধু প্রটোকল দেওয়ার পুলিশ না। ওই জায়গাটাতে তারা ঘুরে দাঁড়ালে সেটাই হবে বিশাল ব্যাপার। তাহলেই তাঁদের প্রতি জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা তা পূরণ করত পারবে। দ্বিতীয় যেটা দরকার সেটি হলো মোটিভেশন, পুলিশকে অবশ্যই প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আবার একটি বিষয় দেখতে খুব খারাপ লাগে, যখন দেখি একজন সার্জেন্ট ১৫-২০ ঘণ্টা ডিউটি করত হয়। এক্ষেত্রে পুলিশকেই দাযিত্ব নিয়ে সমাধাণ করত হবে। তাঁকেই ঠিক করতে হবে কতোটা ডিউটি সে করবে। এই জায়গাই পুলিশকে স্থান করে নিতে হবে। যেখানে জনগণের প্রয়োজন সেখানে মনোনিবেশ করতে হবে। পুলিশকে আরও নিবেদিত হতে হবে। আর সেখানে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তারপর আশে দায়বন্ধতা ও জবাবদিহিতার বিষয়। বাংলাদেশ পুলিশের অনেক সাফল্যা আছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ঘিরে পুলিশের যে সাফল্য তা অভাবনীয়। তা ভুলে গেলে চলবে না। এর কৃতিত্বটাও পুলিশকে দিতেই হবে। একই ভাবে সাধারণ নাগরিকদের সুবিধা পাওয়ার যে বিষয়টি আছে সেটাও তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশের পুলিশকে আমরা দেখতে চাই জনগণের সেবক হিসেবে।

পুলিশতো একটি বাহিনী যাদের দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা মানুষ যেন কোনো বিপদে না পড়ে। পুলিশ একটি দায়িত্ববোধ সম্পন্ন একটি বাহিনী যা আইনশঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত। সেজন্য তাঁদের যে ভূমিকা তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেই হিসেবে জনগণের বন্ধু হয়ে যাওয়াটাই তাঁদের কাছ থেকে কাম্য। আমরা ঐতিহাসিকভাবেই যদি দেখি, তাহলে যখন পুলিশ হয়েছ সেই ব্রিটিশ আমলে ১৯৬১ সালে তখন কিন্তু জনগণের শৃঙ্খলা নিরাপত্তা এগুলি রক্ষা করার জন্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। সেই সময় তাঁদের হয়তো তেমন বেতন ভাতা ছিল না, কিন্তু মানুষই তাঁদের তখন দেখে রাখতো। মানুষের ওপরই তাঁরাও নির্ভির করতো্ তখনকার পুলিশ ছিল জনগণের পুলিশ তবে ধীরে ধীরে মানুষ-পুলিশে দূরত্ব বেড়েছে। পুলিশের ভিতরে আমলাতন্ত্রটা ঢুকে গেছে। তারা নিজেদেরকে একটু সুপিরিয়রটি ভাবার শুরু হয়। আর যাঁদের সঙ্গে এই সুপিরিয়রিটি ভাবা হয়েছে তাদের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব বেড়েছে। তবে এখনো অনেক মানুষ মনে করেন, যদি নো বিচার চাইতে হয়, তাহলে পুলিশের কাছেই যেতে পারে। সেই সঙ্গে বনধুত্বের মনোভাব না থাকলে কিছু পাওয়া হয় না। অনেক সময় এক-দুজনের কারণে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ভাটা পড়ে। যে কারণ জনসাধারণ ও পুলিশের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়। আর অনেক সময় আছে অনেকে তাঁর ক্ষমতার ব্যবহার চায়্। আমরা মনে করি পুলিশ বাহিনী পরিচ্ছন্ন। পুলিশের মতো সৃশঙ্খল বাহিনীর কাছ থেকে জনগণ কী আশা করবে, যদি পুলিশ নিজেরা দক্ষ না থাকে, তাঁদের মধ্যেই যদি ত্রুটি বিচ্যুতি থাকে বা যে দায়িত্ব অছে তা যদি সততা-দক্ষতার সঙ্গে পালন না হয়, তখনই আসলে বিষয়টি চলে আসছে। দূরত্বটা চলে আসে। আমরা তাঁদের কাছ থেকে অথ্যাৎ সাধার মানুষ যা আশা করে কোনো অন্যায় বা অপরাধ মূলক কাজ তাদের বিরুদ্ধে হয়ে থাকলে সাধারণ চাওয়া হবে। এজন্য যার কাছে যাওয়া হবে তাঁদের মধ্যে যদি সততা দক্ষতা না থাকে তাহলেই সমস্যাটা আসে। তাহলে মনে হবে তারাও আইন মানছেন না। তাহলেই তো মানুষের সঙ্গে তাঁদের দূরত্বটা বেড়ে যায়। ভালোমন্দ মিলিয়েই তো সব মানুষ। এখন অনেক তরুণ আসছে। অনেকে বিসিএস দিয়ে পুলিশে যাচ্ছে। এদের অনেককে আমরা পড়িয়েছি, যেহেতু ২৭ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পুলিশে যোগ দিয়েছে এবং তারা অনেক সততা নিষ্ঠার সঙ্গে পুলিশ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের অবস্থান যেখানে আমরা পুলিশের কাছ থেকে অসহযোগিতা পাইনা। তবে এই প্রশ্নটা সাধারণ মানুষের কাছে করা উচিত তারা কতোটা সহযোগিতা পান। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যদি তাদের কার্যকর ভূমিকা, যা কাজ করা উচিত তা না করেন তাহলে রাষ্ট্রেরও ক্ষতি। সমাজ রাজনীতি সবকিছুর সঙ্গেই তাঁর তো অবদান রাখতে হবে। এমন একটা বাহিনী দরকার যা জনগণের পাশে এগিয়ে আসবে। তাদের জীবন আছে। তাদের বেতন কাঠামো যা পরিশ্রম করেন সেই তুলনায় অর্থ পাননা। তবে এসব বিষয় নিয় কয়েক বছর ধরেই আলোচনা হচ্ছে এবং অনেক বিষয়েই অগ্রগতি হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর যেমন কাজ করা উচিত না হয়, তাদের অচরণও যদি অনুচিত হয় তাহলে তাদেরও শাস্তি হবে। আবার যারা ভালো কাজ করছেন তাদেরও মূল্যায়ন হবে। রাষ্ট্রের জন্য মানুষের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলেই আমি মনে করি। পুলিশ অনেক ভালো কাজ করছে যা প্রচারমাধ্যমে আসছে। এভাবে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতেও তাদের অংশগ্রহণ আমরা দেখতে চাই। সবার ওপরে তারাও মানুষ এবং সেভাবেই মূল্যায়ন হোক। এটাই বর্তমান সচেতন মহলের নাগরিকদের চাওয়া এবং পাওয়া বলে মনে করছেন অত্র নিউজ পোর্টালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাংবাদিক এম এ কাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here