প্রতারনা ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলার আসামী আগাম জামিন নিয়ে বাদী’কে হুমকি! থানায় জিডি

0
162
এফআইআর টিভি অনলাইন ডেস্কঃ সিলেটে প্রতারনার মাধ্যমে লাখো-কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে আব্দুল আউয়াল চৌধুরী শিপার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ‘ভয়ঙ্কর প্রতারক’ বলে খ্যাত এই আব্দুল আউয়াল চৌধুরী শিপারের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার মুকিগঞ্জ এলাকাধীন উপর ঝিঙ্গাবাড়ি প্রকাশিত দলইমাটি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল মালিকের পুত্র। বর্তমানে সিলেট মেট্রাপলিটন শাহপরাণ থানাধীন মুহাম্মদপুর ইসলামপুরে (মেজরটিলায়) তার বসবাস। মিডিয়াঙ্গণে শিপার চৌধুরী নামে তার অধিক পরিচিতি। গত ১লা ডিসেম্বর সিলেট মোট্রোপলিট পুলিশ কমিশনার বরাবরে এমন অভিযোগ করেন সিলেট নগরের বন্দরবাজারস্থ রংমহল টাওয়ারের ব্যবসায়ী খসরুল ইসলাম শামসুল।এর পর খসরুল ইসলাম শামসুল গত ১৪ ডিসেম্বও আদালতে মামলা দেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

এসএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে আড়ালে আবড়ালে রয়েছেন শিপার। এখন মামলার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছে এবং তাকে খোজছে পুলিশ।
অভিযোগে প্রকাশ, আব্দুল আউয়াল চৌধুরী ওরফে শিপার চৌধুরী মহনা টিভির সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চিফ (সাংবাদিক), সিলেট প্রেসক্লাব’র সদস্য, সিলেটস্থ টিভি চ্যানেল ইমজার সদস্য, একাধিক দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকার পরিচয়ে গুরু দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন, সরকারসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে তার প্রভাব রয়েছে। এমন প্রভাবের প্রচার করে তিনি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার, কোটি কোটি টাকার ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার, সরকার দলে পদোন্নতি, বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে উচ্চ বেতনে চাকরি, এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রমোশন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারনা করে চলেছেন। প্রতারনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে তিনি সিলেটের প্রায় বিশ জনের কাছ থেকে লাখো কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

প্রতারনা ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মামলা রেকর্ডের পরে আগাম জামিন নিয়ে প্রানে মারার হুমকি
মামলার বাদী খসরুল ইসলাম শামসুল জানান- পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। শিপার চৌধুরী তাকে ও তার কাছের আরেক ব্যবসায়ীকে বিদেশী একটি এনজিও কমিটির কর্তা ব্যক্তি বানিয়ে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা আমদানির ব্যবস্থা করে দেবেন। এমন প্রলোভন দেখিয়ে
আব্দুল আউয়াল চৌধুরী শিপার তাদের দু’জনের কাছ থেকে বিনিয়োগ নামে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। বিনিময়ে একটি ভুয়া এনজিও কমিটির কাগুজে তালিকায় তাদের নাম দেখিয়ে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে ওই এনজিওর পদপদবী ভুয়া প্রমানিত হলে তারা তাদের দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানার পাশাপাশি আড়ালে আড়ালে থেকে তাদের নানা হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। এরকম আরো প্রতারনার শিকার হয়েছেন একই রংমহল টাওয়ারের আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী, সংবাদকর্মী মান্না এবং ডাক্তার পুলিশসহ অনেক।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে আরো কয়েকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শিপার। প্রতারিতদের টাকা ফেরত না দিয়ে শিপার চৌধুরী এখন আড়ালে আবড়ালে থেকে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া অভিযোগের পাশাপাশি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী শিপারের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক পৃথক মামলার পস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১৪ ডিসেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আদালতে নালিশা মামলা (নং-১১২১/২০২১) করেন খসরুল ইসলাম শামসুল। আদালত অভিযোগ গুরুতর অভিহিত করে মামলাটি এজাহার গন্যে ব্যবস্থা নিতে সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি ১৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি এফআইআর (রেকর্ড) করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আব্দুল আওয়াল চৌধুরী শিপার পলাতক রয়েছেন। এছাড়াও শিপারের বিরুদ্দে আরো কয়েকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গ্রেফতার এড়াতে আব্দুল আউয়াল শিপার উপরস্থ আদালত থেকে আগাম জামিনে এসে মামলার বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণ নাশকের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনে রেখেছেন। পরে বাদী নিজের নিরাপত্তার জন্য ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ইং তারিখে কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডাইরী দায়ের করেন।

অনুসন্ধানে আব্দুল আউয়াল চৌধুরী শিপারের প্রতারনা ও আত্মসাতের আরো বহু তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here