প্রশাসনিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক পুরুষতান্ত্রিকতার কারণে সুশাসন-সহায়ক দায়িত্ব পালনে আট দফা সুপারিশ টিআইবির

0
39

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ উপজেলা প্রশাসনের প্রধান হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপ ও প্রভাব, নিরাপত্তা ঝুঁকি, কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের নেতিবাচক ধারণা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসহযোগিতা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার মতো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ। ‘স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উপজেলা নারী নির্বাহী কর্মকর্তার চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আজ এ মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে সংকট উত্তরণে আট দফা সুপারিশ প্রদান করেছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রাক্তন ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাহিদ শারমীন এবং তত্ত্বাবধান করেন একই বিভাগের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো শাহজাদা এম আকরাম ও প্রাক্তন সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আবু সাঈদ মো. জুয়েল মিয়া। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মন্‌জুর-ই-আলম।

গুণগত ও পরিমাণগত পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ (ইউএনও) কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন, তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষণাটি সম্পন্ন করা হয়েছে।  জুন ২০২০ এর তথ্য অনুযায়ী, ৪৮৫টি উপজেলার মধ্যে ১৪৯টি উপজেলায় কর্মরত নারী ইউএনওকে জরিপের জন্য প্রশ্নপত্র ই- মেইলে পাঠানো হয়, এর মধ্যে ৪৫ জন জরিপে অংশগ্রহণ করেন। গুণগত তথ্য সংগ্রহ করার জন্য মুখ্য তথ্যদাতা হিসেবে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা পর্যায়ে অন্যান্য সরকারি অফিসের কর্মকর্তা, প্রশাসন ক্যাডারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, মাঠ পর্যায়ে উন্নয়ন কাজের পরিদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিশেষ কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশের কুসংস্কারাচ্ছন্ন সামাজিক ধ্যানধারণা এবং শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভাবের কারণে, তুলনামূলকভাবে নারীরা অনেক বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হন। এছাড়া উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিদের মাঝে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ে নেতিবাচক জেন্ডার ধারণা বিদ্যমান। যেমন- দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি পরিস্থিতির মতো মাঠ পর্যায়ের কাজে নারীরা খুব দক্ষ নন এবং কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসমর্থ। অন্যদিকে, দুর্নীতি প্রতিরোধ অভিযান, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, মাদকবিরোধী অভিযান, লকডাউন বাস্তবায়নে ইত্যাদি কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে পর্যাপ্ত ও যথাসময়ে সহযোগিতা অনেক সময়ই নারী ইউএনও পান না। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, দুর্নীতিবিরোধী কাজসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের পরিকল্পনা ও সম্পাদনকালীন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের থেকে অনিয়ম করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগের পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। উপজেলা প্রশাসনের প্রধান হিসেবে উন্নয়নমূলক ও সাচিবিক কাজে উপজেলা পরিষদ থেকে অসহযোগিতার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার মতো জরুরি প্রয়োজনে বিভিন্ন সরকারি অফিসের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জটিলতার সম্মুখীন হন নারী ইউএনওগণ। এছাড়া, সংবাদকর্মীদের থেকে অসহযোগিতার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজ থেকে বেশি সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। গবেষণার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চ্যালেঞ্জের বিষয়টি বলতেও তাঁরা অনাগ্রহী।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদে সাচিবিক সহায়তা প্রদানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারী ইউএনওগণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে আসা অবৈধ আর্থিক সুবিধা অনুমোদন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ ইউএনও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে অনিয়ম করতে চাপ প্রয়োগের কথা জানিয়েছেন। যার ফলে অতিরিক্ত ত্রাণ সামগ্রীর জন্য সুপারিশ করতে বাধ্য হতে হয় বলেছেন ২০ শতাংশ ইউএনও। এছাড়া, ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয়ের যথার্থতা যাচাই না করতে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ প্রয়োগ, ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভুয়া ব্যয়ের বিল অনুমোদন এবং ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ নারী ইউএনও উপজেলা পরিষদের ক্রয় সংক্রান্ত কাজে অনিয়ম করতে বাধ্য করা হয় বলে উল্লেখ করেছেন।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ২৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ নারী ইউএনওকে কার্য সম্পাদনে সহকর্মীদের পক্ষ থেকে এবং ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ কে উপজেলা চেয়ারম্যানের অসহযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ ইউএনও দুর্নীতিবিরোধী কাজের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, সমসংখ্যক ইউএনও বিভিন্ন মহল থেকে অনৈতিক কাজের জন্য চাপ, ৩১ শতাংশ রাজনৈতিক প্রভাব এবং ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ কে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া, উন্নয়ন কার্যাবলী তদারকিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সময় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ইউএনও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগের দপ্তরের সাথে সমন্বয়হীনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন ৩১ শতাংশ ইউএনও। এছাড়া, ৭ দশমিক ১০ শতাংশ ইউএনও জেলা প্রশাসন থেকে যথাসময়ে সহযোগিতা না পাওয়া ও ১১ দশমিক ৯ শতাংশ ইউএনও উপর মহলের (স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সচিব) প্রভাব খাটানোর কথা উল্লেখ করেছেন।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগ মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন ৯৮ শতাংশ ইউএনও। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন ৯১ শতাংশ ইউএনও, এর মধ্যে ৭৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রয়োজনীয় বাজেটের অভাব, ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসহযোগিতা, ২২ দশমিক ৯ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণে দুর্নীতি, ২০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের অসহযোগিতা এবং ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ইউএনও মেডিকেলের সুরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের দুর্নীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা বলেছেন।

গবেষণা অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৮৯ দশমিক ১ শতাংশ নারী ইউএনও পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও, দুর্নীতির বিরোধী কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ ইউএনও। দুর্নীতির বিরদ্ধে পদক্ষেপ নিতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনীতিবিদদের চাপ প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ ইউএনও। উল্টো দুর্নীতির বিরদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তাঁদের বিরদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করার কথা বলেছেন ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ ইউএনও। এছাড়া, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সাংবাদিকের দ্বারা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার দাবি করেছেন ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসহযোগিতার কারণে ৫০ শতাংশ, স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কারণে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ , উপজেলা পরিষদের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তার দ্বারা ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ, জেলা প্রশাসকের কারণে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কারণে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ও সাধারণ জনগণের কারণে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ ইউএনও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন বলে উল্লেখ করেছেন। অবশ্য যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেরা চেষ্টা করার কথা বলেছেন জরিপে অংশ নেওয়া সকল নারী ইউএনওগণ। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নারী ইউএনও জেলা প্রশাসন, ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ২২ দশমিক ২ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ৩১ দশমিক ১ শতাংশ স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহায়তা নেন বলে উল্লেখ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে উপজেলার সকল কার্যক্রম সঠিকভাবে পালনের ক্ষেত্রে নারী ইউএনও’র দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। দ্রুত কাজের সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, নিরাপত্তাহীনতা, সবসময় সব স্থানে যেতে না পারা, কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে আগ্রহ কম, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কম দক্ষ ইত্যাদি নেতিবাচক মন্তব্যের বিপরীতে নারী ইউএনওদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং কর্মস্থলে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কম রাখার কথা উল্লেখ করেছেন তথ্যদাতারা। তা ছাড়া জরিপের তথ্যানুযায়ী, দুর্নীতির শিকার হলে অভিযোগ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ, উপজেলা প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি প্রদান ও দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেন ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ নারী ইউএনও।

কর্মরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এক তৃতীয়াংশ নারী হওয়া নারী ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত হওয়া স্বত্ত্বেও নারী পরিচয়ের কারণে কর্মক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ এই ইতিবাচক অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আমাদের প্রশাসনিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিবেশ জেন্ডার সংবেদনশীল নয় বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক। নারী ইউএনও-কে একজন মানুষ বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে না দেখে মূলত নারী হিসেবে দেখার প্রবণতা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। সমাজে প্রভাব সৃষ্টিকারি মহলের নারীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব এবং নারী মাত্রই পুরুষের তুলনায় কম দক্ষ এমন মানসিকতাই নারী ইউএনওদের বিভিন্ন প্রকার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে। তাছাড়া দুর্নীতির ব্যপকতা ও সুশাসনের ঘাটতি, সুবিধাভোগী এবং স্বার্থান্বেষী মহলের অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা অর্জনের হীন প্রয়াস আমাদের নারী ইউএনওদের ক্ষমতায়নের অন্যতম অন্তরায়। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমরা দেখি যে সব দেশে নারীদের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে, সে সব দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। উল্টোদিকে যে সব দেশ  নারীর রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন কার্যকরভাবে করতে ব্যর্থ হয়েছে সে সব দেশে দুর্নীতির প্রবনতা এবং সুশাসনের চ্যালেঞ্জ বেশি দেখা যায়। নারীর ক্ষমতায়নের সাথে দুর্নীতি রোধের ইতিবাচক সম্পর্কের সুবিধা থেকে আমরা নিজেদের বঞ্চিত করছি।”

গবেষণা অনুযায়ী সাংবাদিকদের কারণেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারী ইউএনও-রা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে ড. জামান বলেন, “সাংবাদিকতার অনেক ভালো দৃষ্টান্ত রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের সাথে যোগসাজশে স্থানীয় সাংবাদিকরা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে স্থানীয় সাংবাদিকদের পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা বা অন্যান্য সুবিধাদি না পাওয়া, এবং তাদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের মতো বিষয়ও কাজ করে।”

স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নারী ইউএনওগণের ভূমিকা আরও কার্যকর করতে আট দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি। নারী ইউএনওদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দূর করার জন্য উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা পরিষদের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে নারীর প্রতি সংবেদনশীল আচরণের ওপর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের এসিআর এ জেন্ডার সংবেদশীলতাকে একটি সূচক হিসেবে রাখা; উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাচিবিক সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইউএনও এবং চেয়ারম্যানগণকে নিয়ে ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করা; দুর্নীতি প্রতিরোধে নারী ইউএনও’র পদক্ষেপের জন্য জেলা পর্যায়ে তাকে সম্মানিত করা এবং পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা; উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে কোনো নারী ইউএনও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর আক্রমণ ও ষড়যন্ত্রের শিকার হলে, তাকে আইনগত সহায়তা দেওয়া ও নিরাপত্তা প্রদান করা; সংবাদমাধ্যমগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যথাসাধ্য সঠিক সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে ইউএনও’র কার্যক্রম সম্পাদনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here