বানিয়াচংয়ে চাঁদা না দেওয়ায় স্কুল পড়ুয়া মেয়ের ও বাবাকে পিটালেন এক ইউপি সদস্য ! বিচারের আশায় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে দরখাস্ত

0
27
মোঃ আকিকুর রহমান রুমন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে রাস্তার চাঁদা না দেওয়ায় স্কুল পড়ুয়া মেয়ের ও তার বাবাকে পিটালেন এক ইউপি সদস্য ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।
এই ঘটনার বিচার না পেয়ে ইউপি সদস্য ও সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে অভিযোগ দিলো স্কুল পড়ুয়া দশম শ্রেনীর আহত নির্যাতিতা শিক্ষার্থী।
অভিযোগ ও নির্যাতিত পরিবার সূত্রে জানা যায়,
বানিয়াচং উপজেলা সদরের ২নং উত্তর পশ্চিম ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চানপাড়া মহল্লার বাসিন্দা অভিযোগকারী আহত নির্যাতিতা  ছাত্রীর পরিবার। তার পিতার নাম আফরোজ মিয়া।
আফরোজ মিয়া খুব দরিদ্র একজন বয়স্ক খেটে খাওয়া কৃষক শ্রমীক।তার পরিবারে রয়েছে ৩টি কন্যা সন্তান নেই কোন পুত্র সন্তান।বয়সের কারনে বর্তমানে তিনি তেমন কোন কাজ কর্মও করতে পারেন না। অভাবের সংসারে তিনি মেয়েদেরকে নিয়ে খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করে যাচ্ছেন।
গত ১১ এপ্রিল সকালে আফরোজ মিয়ার বাড়ির বসত ঘরে আসেন ঐ ওয়ার্ডের তাদের বর্তমান ইউপি সদস্য(মেম্বার)জিতু মিয়া ও তার সাথে থাকা মাসুক মিয়াসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এসময় মেম্বার এলাকার রাস্তা নির্মাণের জন্য মোটা অংকের চাঁদা(টাকা) দাবী করে বসেন আফরোজ মিয়ার নিকট।কিন্তু আফরোজ মিয়া খুবই দরিদ্র এবং অসহায় বলে চাঁদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তখন মেম্বার জিতু মিয়া উত্তেজিত হয়ে খারাপ ভাষায় গালি গালাজ করতে থাকে এমনকি তার সাথে থাকা মাসুক ও সাঙ্গপাঙ্গরাও গালিগালাজ করা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা মেম্বারের নেতৃত্বে আফরোজ মিয়ার উপর চড়াও হয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে আহত করে ফেলে।
এসময় আফরোজ মিয়ার ১০ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে বাবাকে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচাতে বাধা প্রদান করে। তখন হামলাকারীরা তাকেও বেধরক মারপিট করে পড়নে থাকা স্কুল ড্রেস ছিড়ে অর্ধ-উলঙ্গ করে নির্যাতন করে আহত করে।
এসময় বাপ মেয়ের চিৎকারে আশপাশে থাকা লোকজন এগিয়ে আসলে মেম্বার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পালিয়ে যায়। পরে তাদেরকে আহত রক্তাক্ত অবস্থায় স্হানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসা জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
এই ঘটনার বিষয়টি অসহায় পরিবার এলাকার মাতব্বরসহ গ্রামের সর্দার প্রদান ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের অবগত করেন। তারা বিষয়টি  শালিসের মাধ্যমে মিমাংসা চেষ্টা করেন।
কিন্তু ইউপি সদস্য জিতু(মেম্বার) এলাকার প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ হওয়ার কারনে তাদেরকে সর্দার প্রদানসহ এলাকার মুরব্বিগন বিচারে আনতে পারেননি।
অবশেষে এই পরিবারটির আর্থিক অবস্হা খারাপ হওয়ায় এবং কোন টাকা পয়সা না থাকায় মামলা মোকদ্দমা করতে পারেনি।
পরে নিরুপায় হয়ে এই ঘটনার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আফরোজ মিয়ার কন্যা”স্হানীয় মহারত্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ১০ম শ্রেনীর আহত নির্যাতিতা ছাত্রী গতকাল(১৭এপ্রিল রবিবার)একটি অভিযোগ দায়ের করে।
উক্ত অভিযোগটি অনুলিপি হিসেবে বিভিন্ন দফতরসহ হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার,বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বানিয়াচং থানাকেও দেওয়া হয়।
এই ব্যাপারে জানতে, চানপাড়া মহল্লার বর্তমান সর্দার প্রধান মোঃ রাসেল মিয়ার সাথে সকাল ১০টা ৯মিনিটে উনার মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে,তিনি এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকাকে জানান, তিনি এবিষয়টি সমাধানের জন্য মেম্বারসহ তার লোকজন ডাকালে তারা তার ডাকে কোন প্রকার সাড়া না দিয়ে বিষয়টি তারা নিজেরাই সমাধান করে নিবে বলে সর্দারকে জানায়।
তারপর সর্দার তাদেরকে চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করতে বলেন,পরে তারা বর্তমান চেয়ারম্যান হায়দার উজ্জামান খান ধন মিয়াকে বিষয়টি অবগত করলে,তিনিও প্রথমে এলাকার সর্দারের নিকটে পাঠিয়েছিলেন সমাধানের জন্য।
পড়ে চেয়ারম্যান সর্দারের এমন জবাব শুনে এই নির্যাতিত পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন বলেও সর্দার রাসেল মিয়া উনার বক্তব্য এসব তুলে ধরেন।
এমনকি এহেন ঘটনার সুষ্ঠ বিচার যেন হয় এমনটাও দাবী জানিয়েছেন প্রশাসনের নিকট।
এব্যাপারে মহারত্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন দেব এর সাথে সকাল ১০টা ২২মিনিটে উনার মুঠোফোন নাম্বারে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করা হলে,তিনি দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকাকে জানান,নির্যাতিতা আহত ছাত্রীটি তার বিদ্যালয়ের চলতি বছরের ২০২২ইংরেজী সনের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
আর দুই দিনের মতো রয়েছে রেজিষ্ট্রেশন করার।কিন্তু তার এই ছাত্রী এখনো রেজিষ্ট্রেশন করে নাই।
এবিষয়ে স্কুল কতৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে,তাদেরকে এই ঘটনা সম্পর্কে লিখিত ভাবে কেউ অবগত করে নাই বলেও জানান।
তবে তিনি ঘটনাটি কোন সাংবাদিকের ফেইসবুক থেকে গতকাল রাতে শুনেছেন বলেন।
এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জিতু মেম্বারের সাথে,সকাল ১০টা ৩০মিনিটে তার মুঠোফোন নাম্বারে সাংবাদিক পরিচয়
বক্তব্য জানতে চাইলে,তিনি গাড়িতে রয়েছেন এবং ব্যস্ত আছেন বলে,১০মিনিট পর যোগাযোগ করার কথা বলে ৩৫সেকেন্ডের ভিতরেই লাইনটি কেটে দেন।এরপর তিনি আর কোন যোগাযোগ করেননি এবং তার কোন প্রকার সাড়াও পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে ২নং ইউপির চেয়ারম্যান হায়দার উজ্জামান খান ধন মিয়ার সাথে সকাল ১০টা ৩১মিনিট ও ১০টা ৩৬মিনিটে উনার মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে,তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি বলে তার কোন বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ঘটনা সম্পর্কে এলাকাবাসী অনেকেই মেম্বার ও তার দলবলের হামলার বিষয়টি এবং বাপ-মেয়েকে আহত করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,মেম্বার এলাকার প্রভাবশালী ও তার গুষ্টির লোকজন বেশি থাকার কারনে তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাননা।
এমনকি মেম্বারের আত্বীয় স্বজন ও মেম্বার নিজেও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড করে অপরাধ মূলক কাজ কর্ম করে যাওয়ারও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী অনেকেই।
অন্যদিকে এই ঘটনাটি,ইন্টারনেট ফেইসবুকের মাধ্যমে জানাজানি হয়ে পড়লে,সামান্য এক মেম্বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবরে অভিযোগটি মেনে নিতে পারেননি।সচেতন মহলের অনেকেই বিভিন্ন মন্তব্য করে বলেন,বানিয়াচং থানায় অভিযোগটি দিলে বর্তমান(ওসি)খুবই ভাল এবং কোন টাকা পয়সা ছাড়াই আইনী সহযোগীতা করতেন।
এঘটনা সম্পর্কে জানতে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ হুসেনের বক্তব্য জানতে থানার সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে,তার সাথে নেটওয়ার্কের কারনে যোগাযোগ করা যায়নি।
পরে বানিয়াচং থানার আইডি তার বক্তব্য জানতে মেসেজ দিয়ে রাখলে,তিনি সকাল ১১টা ৩২মিনিটে থানার মুঠোফোন নাম্বার থেকে”জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার প্রতিনিধির মুঠোফোন নাম্বারে ফোন করে এবিষয়ে আক্ষেপের শুরে বলেন,বানিয়াচং থানায় প্রায় দুই বছরের উপরে হয়েছে তিনি এখানে এসেছেন।কিন্তু দিন-রাত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গ্রাম বানিয়াচং উপজেলাবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।এমনকি তিনি গতকাল ১৭এপ্রিল বানিয়াচংয়ের ৫টি স্হানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।অথচ তিনি সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই সেইসব সংঘর্ষ স্হলে গিয়ে সামাল দিয়ে আহত অনেকেই সিলেটসহ বিভিন্ন মেডিক্যালে পাঠিয়েছেন চিকিৎসার জন্য।এমনকি রাত ৪টার দিকে সেহরি খাওয়ার পর পরই বিভিন্ন ঘটনার জন্য থাকে বের হতে হয়েছে এমনকি সকাল ১১টার দিকে তিনি থানায় রোমে এসে বসেছেন।
অথচ এমন ঘটনা ঘটে থাকলে,তাহার কাছে কেউ কি এবিষয়ে একটা অভিযোগ দিতে পারেনি বলে খুবই দুঃখ প্রকাশ করে বলেন কথাটি। তিনি এও বলেন কেউ যদি কোন অভিযোগ দিতে আসে,তাহলে তার অফিসার দ্ধারাতে অভিযোগকারীর অভিযোগটি থানার কম্পিউটার দিয়ে টাইপিং করিয়ে অভিযোগ গ্রহন করে রাখেন কোন প্রকার টাকা পয়সা ছাড়াই।আমার এসব কর্মকান্ড সম্পর্কে শত শত প্রমান রয়েছে আপনাদের বানিয়াচং উপজেলাবাসীর কাছেই।এক শ্রেনীর কিছু মানুষ রয়েছে কিভাবে মানুষকে ধোকা দিয়ে,যেকোন ঘটনাকে তিল থেকে থাল বানিয়ে কিভাবে বিষয়টি রং দেওয়া যায় এসব দান্দা নিয়ে অজাতা মানুষকে থানা হয়রানি করে থানার সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
যেই যাহা কিছুই করুক না কেন তিনি যতোদিন বানিয়াচং থানায় থাকবেন,সব সময় বানিয়াচং উপজেলাবাসীর সেবা দান করে পাশে থাকবেন বলেও জানান।
এছাড়াও তিনি এবিষয়ে যদি এখনো কোন অভিযোগ দায়ের করেন।কোন প্রকার টাকা পয়সা লাগবে পূর্বের মতো করেই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা পাওয়ার সাথে সাথেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে  আইনী ব্যাবস্হা নিয়ে সব সময় অভিযোগকারীদের সহযোগীতা করে পাশে থাকার কথা গুলো তাহার বক্তব্যর মাধ্যমে তুলে ধরেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here