বানিয়াচংয়ে ৫১পিস ইয়াবাসহ ইসরাইল গ্রেপ্তার ।। পালিয়ে যাওয়া চিহ্নিত ব্যাবসায়ী মনিরসহ অন্যান্যদেরকে খুজছে পুলিশ

0
45

আকিকুর রহমান রুমন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সদরের কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী টিপুর বাড়ির সামন থেকে ৫১পিস ইয়াবাসহ ইসরাইল মিয়াকে গত ১৩ নভেম্বর শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বানিয়াচং থানা থেকে মাদকের আইনে ৩জনকে আসামী করে হবিগঞ্জের বিঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।

পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানাযায়, ১২নভেম্বর শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সদরের ১নং উত্তর পূর্ব ইউনিয়নের বড় বাজারের পশ্চিম দিকে সাউথপাড়ার মৃত সিরাজ মিয়ার পুত্র বহু মাদক মামলার আসামী কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী টিপুর বাড়ির সামনে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ইয়াবা নামক মাদক ব্যাবসায়ী একত্রিত হয়ে ইয়াবার ব্যাবসা করার গোপন সংবাদ আসে। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ এমরান হুসেনের নেতৃত্বে এসআই সঞ্চয় শিকদার,এসআই সন্তুষ চক্রবর্তীসহ একদল পুলিশ টিপুর বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে ৫১পিস ইয়াবাসহ যুবদল কর্মী এক ইয়াবা ব্যাবসায়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় পুলিশের অভিযান আচ করতে পেরে মনির নামের এক চিহ্নিত ইয়াবা ব্যাবসায়ীসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারকৃত ইয়াবা ব্যাবসায়ী হলো উপজেলা সদরের সৈদরটুলা মহল্লার মৃত হোসেন আহমেদ মিয়ার পুত্র ইসরাইল মিয়া(৪০)। ইতিপূর্বেও ইসরাইল গরু চুরি,মাদক,ডাকাতি ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। এসব মামলায় দীর্ঘদিন হাজতবাস করে জামীন লাভ করে বের হয়। তারপর থেকেই শুরু করে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা নামক মাদকের ব্যাবসা। এমনকি বানিয়াচংয়ের বেশকিছু চিহ্নিত ইয়াবা ব্যাবসায়ীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। আর সেই সিন্ডিকেট মধ্যে বহুবার ইয়াবা ও অন্যান্য মামলায় গ্রেফতার হওয়া চিহ্নিত মনির ও হিরোইন,ইয়াবাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হওয়া টিপু’র দ্ধারাতে স্পট তৈরী করে ইয়াবা সেবনসহ ইয়াবা সাপ্লাই ও ব্যাবসার কাজকর্ম সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিল এই সিন্ডিকেট বাহিনীর লোকজন।

অন্যদিকে পালিয়ে যাওয়া চিহ্নিত ইয়াবা ব্যাবসায়ী হলো উপজেলা সদরের তাম্বলীটুলা মহল্লার মৃত-ফজু মিয়ার পুত্র মনির(৩০)মিয়া। এদিকে পুলিশ ইসরাইলকে থানায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তার কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলেও জানাযায়। যাহা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলেও জানান। পরে থানা পুলিশ রাতে ইসরাইলকে নিয়ে আবারও গ্রেফতার অভিযানে নামেন। কিন্তু চতুর চালাক ব্যাবসায়ীরা ইসরাইল গ্রেফতারের খবর পেয়ে আত্মগোপনে চলে যায় বলে অন্য কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। এব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)এমরান হুসেন এসব বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,ইসরাইলকে রিমান্ডে এনে সবকিছু তথ্য নিয়ে এই ইয়াবার আমদানিকারক ও আড়ালে থাকা সকল গডফাদারকে শীঘ্রই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।এছাড়াও পলাতক চিহ্নিত ইয়াবা ব্যাবসায়ী মনিরসহ সকল ব্যাবসায়ী ও অপরাধীদের গ্রেফতার করতে তাদের অভিযান চলছে।শীঘ্রই তিনি সকলের সহযোগীতা নিয়ে এই সিন্ডিকেট ও অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবেন বলেও আশাবাদী। এমনকি তিনি বানিয়াচং উপজেলাবাসীকে মাদক ও অপরাধ মুক্ত একটি সুন্দর উপজেলা উপহার দিবেন বলেও তিনি তার মতামত ব্যাক্ত করেন বানিয়াচংয়ের ইয়াবা নামক মাদক ব্যাবসাসহ অন্যান্য অপরাধ কর্মকান্ডসহ এক ভয়াবহ তথ্য চিত্র পাওয়া যায় অনুসন্ধানে।

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি এলাকা থেকে সচেতন সমাজের লোকজনও বেশকিছু তথ্য প্রদান করে করে বলেন,বানিয়াচং উপজেলা সদরের ভিতরে নতুন বাজারের ৩নং অফিসের পাশে এক সিএনজি ম্যানেজার ও ফার্মেসী ব্যাবসায়ী মিলে সেই এলাকার ইয়াবা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ৫/৬নং বাজারের পাশে কালিকাপাড়া, যাত্রাপাশা ও শরীফ খানীর ৩/৪জন ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ইনাথখানী,তোপখানা ও স্বর্গীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা দোলন পান্ডের মন্দিরের পাছনের ঘর ৪/৫জন ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার পাছনের রোড দত্তপাড়া,চতুরঙ্গ রায়ের পাড়া,বাগ মহল্লা,কামাল খানী ও মাতাপুর এবং চানপাড়া,আমীরখানী মহল্লায় ৪/৫জন এই ইয়াবা নামক মরন নেশা বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে দিন দিন যুব সমাজ ধ্বংসের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও তারা জানান।

এসব ইয়াবা ব্যাবসা ও অন্যান্য অপরাধের ব্যাপারে,হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের নিকট সচেতন মহল ও সচেতন সমাজের নেতৃবৃন্দের জোরদাবী জানিয়েছেন। এসব মাদক ব্যাবসায়ী ও অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতার করে যুব সমাজকে রক্ষা তথা অপরাধ বন্ধ করে সুন্দর একটি উপজেলা উপহার দেওয়ার জোরদাবী জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here