বারহাট্টায় মা আমাদের বসুন্ধরা রোপিত উদ্ভিদের সেবা দিচ্ছেন সফল কৃষক – সন্তোষ বিশ্বাস

0
103

সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা, থেকেঃ আমরা যুগল রুপে প্রতিনিয়ত ” মা আমাদের বসুন্ধরা রোপিত উদ্ভিদের সেবা দেই। দূজনে মিলে মৃত্তিকা গর্ভ একটি বীজ দিয়েছিলাম শুভক্ষণে শুভদিনে। দেখতে দেখতে সেবা দিতে দিতে একদিন আংকরোদম ঘটে। আলো, বাতাস, জল, খাবার তাকে আমরা দিতে থাকি। সে বড় হতে থাকে। পত্র পল্লব শাখা প্রশাখা বিস্তার করে ঘন সন্নিবিষ্ট নিবিড়তা বৃদ্ধি করে, আমাদের পরিপূর্ণ সন্তান, আমাদের অতি আদরের উদ্ভিদ রাজি ফলদান শুরু করে। সে ফল খেয়ে আমরা বাঁচি, সমগ্র বিশ্বের মানব কুল বাঁচে। এই যে উদ্ভিদের সঙ্গে আমাদের নিবিড়তা, বাঁচা বাড়ার নিবিড়তা, সংগ্রাম উদ্দিপনার নিবিড়তা ভালোবাসা প্রেমের নিবিড়তা, গভির থেকে গভীরে সন্তানের প্রতি স্নেহময় মমতা তার বিকাশ রূপ উপলদ্ধি ” আমি ভালো লক্ষের দিকে পথ হাটি ” আমার আশিক্ষিত জনের আলোচ্য বিষয়। আমি সন্তোষ বিশ্বাস। বারহাট্টা উপজেলা ধীন রসূলপুর গ্রাম নবাসী। ১৯৭৮ সালে ৮ম শ্রেণী পাশ। কৃষি কাজ করি। মাটি ও উদ্ভিদের সঙ্গে কাজ করি দিন রাত মিলিয়ে ২০ ঘন্টা। আমার লক্ষ্য থাকে ভালো কিছু করা। মনের মতো সবজি, মনের মতো ধান, হউক না যে কোন ফসল। মাত্র ১০ কাঠা জমি দিয়ে আমি, ৫ জনের পরিবারের প্রতিপালন কর্তা, আমার নির্ভরতা শুধু ওই টুকু জমি। আমার পরিবারের সারা বছর ব্যাপি ধান, সবজি, আদা, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, পেয়াজ তেল সহ অনেক নিত্য পণ্য বাজার থেকে ক্রয় করতে হয় না। ওই যে মাটি ও উদ্ভিদের সাঙ্গে আমার প্রেম, আমার কাজের উদ্দিপনার গভীর নিবিড়তা, সৃষ্টিশীল, গতীশিল এক শিল্পের দিকে ধাবিত হওয়া মূল লক্ষ্য। আমি বৎসরে দুই থেকে আড়াই লক্ষ্য টাকা আয় করি। আমার লক্ষ্যমাত্রা সামনে প্রতি কাঠায় বাৎসরিক এক লক্ষ্য টাকা আয় করা। তার মানে আমি আমার ১০ কাঠা জমিতে বৎসরে ১০ লক্ষ্য টাকা আয় করবো। আমার লক্ষ্যের নির্ভরতা বেড়েছে, রঙিন ফুলকপি চাষ করে। ১০০-১২০ টাকা পিস বিক্রি করেছি ওজন ছিল প্রায় দেড় কেজি। সময় লেগেছে মাত্র ৬০-৭০ দিন। দশ কাঠা জমিতে দশ হাজার ফুলকপি রোপণ করা যায়, ৫০ টাকা দরে ৫ লক্ষ্য টাকা ১০ হাজার কপির বিক্রয় মূল্য। মাত্র ৩ মাসে আয়। বাকি নয় মাসে গ্রাফটিং টমেটো টমেটো ও বেগুন। ১০ কাঠায় ৫ হাজার চারা লাগাবো। প্রতি গাছ ৯ মাসে ফলন দিবে সর্বনিন্ম ৫ কেজি। সর্বমোট ৫ হাজার গাছে ২৫,০০০ কেজি। যেহেতু বর্ষায় থাকবে টমেটো ও বেগুন সেহেতু সর্বনিন্ম ধরতে পারি বিক্রয় মূল্য প্রতি কেজি ২৫ টাকা, তাহলে ৬ মাসে বিক্রয় মূল্যা দাঁড়াবে ৬ লক্ষ্য ২৫ হাজার টাকা। ৬ লক্ষ্য ২৫ হাজার টাকা যোগ ৫ লক্ষ্য টাকা, বাৎসরিক ১১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। ওই যে সাফল্য তার জয় গাথা, সেজন্যে আমাকে মাটির সঙ্গে আমার প্রিয় ফসলের সঙ্গে মিশে থাকতে হয়। মাটি ও উদ্ভিদ আমার প্রেরণা, উদ্দিপন, নব নব উদ্ভাবন আশার আলো দেখায়। মধ্য বসন্তের মধ্য রাতে আমি যখন আমার অতি যন্তের প্রতিটা উদ্ভিদের সাথে শুয়ে থাকি, তখন উপরের লক্ষত্র রাজি আমাকে আমাকে সমগ্র বিশ্ব ভ্রমান্ডের দিকে ধাবিত করে। আমার প্রিয় জন্মভূমির কৃষিকে অভাবনীয় সাফল্য গাথাঁর নেত্রী, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, জন নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ” ১“ জমিও পতিত রাখা যাবে না “। আমি প্রধান মন্ত্রীর বাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে আমূল্য মন্ত্র ভেভে কাজ করে যাচ্ছি। আমার দেশ প্রেমের প্রেরণা এই অমূল্য প্রধান মন্ত্রীর বাণী। আমি ভেজাল মুক্ত খাবার, কীটনাশক মুক্ত সবজি উৎপাদন ও বিপনণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাসায়নিক সার কম ব্যাবহার করে বৈঙ্গানিক পদ্মতিতে সকল প্রকার লাভ জনক ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করেছি। সৎ ভাভনা সৎ লক্ষ্য আমার নতুন পথের যাত্রা শুভময় করে দেয়।

বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাকিবুল হাসান বলেন, আমরা সব সময় কৃষিবিভাগ থেকে সন্তোষ বিশ্বাসকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি, ও কৃষি বিভাগের নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে উপজেলার সকল কৃষকদেরকে সেবা দিচ্ছি, আমরা মাঠে আছি কৃষকের জন্য যাতে কৃষকরা আরো ভালো কিছু করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here