যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনের শিকার মানবাধিকারকর্মী নাজমা 

0
360

স্টাফ রিপোর্টারঃ যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনের শিকার মানবাধিকারকর্মী নাজমা আক্তার অভিযোগ করেও বিচার পাচ্ছে না। দীর্ঘ ১২ বছর সংসার করার পরও যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে ৩ সন্তানের জননী নামজাকে।

স্বামীর নির্যাতনে আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে নাজমা। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করায় তার উপর নির্যাতন বেড়ে গেছে। সন্তানদের সামনেই নাজমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালির পাশাপাশি শারিরীক নির্যাতন অব্যহত রেখেছে স্বামী। নাজমা আক্তার জাতীয় পরিবেশ মানবাধিকার সোসাইটি (জাপমাস) এর কেন্দ্রেীয় কমিটির একজন সদস্য।

ঘটনাটি ঘটেছে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকায়। জাতীয় পরিবেশ মানবাধিকার সোসাইটি (জাপমাস) এর কেন্দ্রেীয় কমিটির সদস্য নাজমা আক্তার অবুঝ ৩ সন্তান নিয়ে এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল টিসি রোড এলাকায় অবস্থিত ছাত্তার মেডিক্যাল স্টোরের আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মিজানের সাথে গত ২০১২ সালে পারিবারিকভাবে নাজমার বিয়ে হয়। বিয়ের শুরুতে সংসার ভালোই চলছিল। বিয়ের পর নাজমা কয়েক দফায় স্বামী মিজানকে ১০-১২ লাখ টাকা দিয়েও তার মন জয় করতে পারেনি। এরই মধ্যে সংসারে আসে আরও ২টি সন্তান। স্বামীকে আর্থিকভাবে সহায়তার জন্য সন্তানদের বাসায় রেখেই নাজমা আদমজী ইপিজেডে চাকুরী নেয়। চাকুরীর সকল আয় তার স্বামীর হাতেই তুলে দেয় সে। তারপরও স্বামী মিজান যৌতুকের জন্য নাজমাকে মারধর করত নিয়মিত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নাজমা গত শনিবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ খবরে তার উপর নির্যাতন বাড়িয়ে দেয় মিজান। নাজমা শুধুমাত্র অবুঝ শিশুদের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে সংসারে থাকতে চেয়েছে। কিন্তু যৌতুক লোভী স্বামী তাকে মাত্র এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে বিদায় করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মিজানের স্বজনরা। নির্যাতনের শিকার নাজমা জানায়, পারিবারিকভাবে আমার সাথে মিজানের বিয়ে হয়। এসময় তাদের পরিবার আমার মেয়ে ফারিহাকে মেনে নিয়েই বিবাহ করায়। বিবাহের পর থেকে এ পর্যন্ত আমি স্বামী ও তার স্বজনকে প্রায় ১২ লাখ টাকা দেই।

যৌতুক লোভী স্বামী মিজান

গত ছয় মাস যাবৎ মিজান আমাকে টাকার জন্য নির্যাতন করতে শুরু করে। আমার বাবা বেঁচে নেই। আমার কাছে যা ছিল সব দিয়ে দিয়েছি। এখন আমার কাছে আর কিছুই নেই। তারপরও আমার উপর চলতে থাকে নির্যাতন। অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করা ছাড়াও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। সহ্য করতে না পেরে থানায় অভিযোগ দায়ের করি। এরপর আমার উপর নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মিজান। মিজান তাকে এই বলে হুমকি দেয়, আমরা পুলিশকে মাসোয়ারা দেই। পুলিশ দিয়ে আমাদের কিছুই করতে পারবি না। এখন তার পরিবারের স্বজন বিশেষ করে- ভাসুর, জা, ননদ ও শাশুরীসহ আরও কয়েকজন মিলে আমার উপর নির্যাতন করছে। আমার ভাসুর আমাকে দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে বিদায় করতে চাচ্ছে। আমি এখন নিরুপায়। কি করব জানিনা। এই অবুঝ তিনটি শিশুর ভবিষ্যত নিয়ে আমি চিন্তিত। কেন নির্যাতন এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমা জানায়, একটি মেয়ের সাথে মিজানের পরিচয় হয়েছে যার স্বামী নাই এবং তার একাউন্টে ৫০ লাখ টাকা রয়েছে। আমাকে বিদায় করে দিয়ে ওই মেয়েকে বিয়ের জন্যই আমাকে নির্যাতন করছে। আমাকে বিদায় করতে পারলে ওই মেয়েকে বিবাহ করা তার জন্য সহজ হবে। মূলত এইজন্যই মিজান আমার উপর নির্যাতন করছে। আমি এর প্রতিকার চাই। তিনটি অবুঝ সন্তানের ভবিষ্যত নিশ্চয়তা চাই। এ বিষয়ে মিজান কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। তার ভাই আব্দুস সাত্তার জানায়, পারিবারিকভাবে আমরা কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করে দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আরও যদি কিছু পাওনা থাকে তা আমরা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করে দিব। তদন্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাস জানায়, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here