লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ১২ ইউনিয়নের ৭টিতেই  দুর্চিন্তায় নৌকার মাঝিরা

0
125
এস এম আলতাফ হোসাইন সুমন, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে আগামী ২৬ ডিসেম্বর  অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন । চতুর্থ ধাপে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনই রয়েছেন ঝুঁকির মধ্যে। এই উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে সব কটিতেই স্বতন্ত্রের আড়ালে রয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী।
উপজেলার ভেলাগুড়ী, গোতামারী, নওদাবাস, টংভাঙ্গা, সিন্দুর্না, ডাউয়াবাড়ী , সিঙ্গীমারী, সানিয়াজান, বড়খাতা ও ফকিরপাড়া  ইউনিয়নে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা গর্জে উঠেছেন। তাই দলের মনোনীত প্রার্থীরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এ ছাড়াও বিএনপি-জামায়েতের সরাসরি প্রার্থী না থাকলেও স্বতন্ত্রের ব্যানারে ভোটের মাঠে আছেন তাঁরা।
জানা যায়, তৃনমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করা, দলীয় কোন্দল, প্রার্থীদের ব্যাপারে নেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ জনিত কারন, জনবিচ্ছিন্নতা, স্থানীয় নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের কারণে নৌকার মাঝিরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।
গড্ডিমারী,  পাটিকাপাড়া, বড়খাতা, সিঙ্গিমারী, ফকিরপাড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান, নওদাবাস ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান, ডাউয়াবাড়ীতে গত বারের নৌকার মাঝি মসিউর রহমান আর বাকি পাঁচটি ইউনিয়নে নতুন মুখকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এখনও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি কোনো প্রার্থীই। ফলে দলের প্রার্থী, সমর্থক কর্মী ও নেতারা রয়েছেন চাপের মুখে।
ভেলাগুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে নৌকার নতুন প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল মন্ডল। এই ইউনিয়নে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বহিকৃত  উপদেষ্টা বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন। এছাড়াও ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মুরাদ হোসেন দলীয়
মনোনয়ন না পেয়ে তিনিও হয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী।
গোতামারী ইউনিয়ন নৌকার নতুন প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক মন্জু। এ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য বহিঃকৃত সহ- সভাপতি মোনাব্বেরুল হক মোনা হয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রের আড়ালে রয়েছে বিএনপি নেতা জলিল মিয়া। তবে এই ইউনিয়নে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।
নওদাবাস ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক। তবে এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদ্য বহিঃ কৃত উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা অশ্বিনী কুমার বসুনিয়া নৌকা না পেয়ে নির্বাচন না করলেও তার ছেলে রনবির মিত্র বসুনিয়া স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন  করছেন। এছাড়াও ইউনিয়ন সদ্য বহিঃ কৃত যুবলীগের সভাপতি রতন চক্রবর্তী হয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী। এখানে আরও চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আলি আজগর লবি। ফলে দুশ্চিন্তায় আছে নৌকার প্রার্থী একেএম ফজলুল হক। এ ইউনিয়নে সতন্ত্র প্রার্থী রনবির মিত্র আছেন শক্ত অবস্থানে।
টংভাঙ্গা ইউনিয়নে নৌকা প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম হোসেন। এই ইউনিয়নে নির্বাচন করবেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান আতি।  এ ইউনিয়নে জামায়াত সর্মথক হাবিবুর রহমান সাতা রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড.মশিউর রহমান। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও বহি ঃকৃত বর্তমান চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ এবং সদ্য বহিঃ কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলওয়ার হোসেন হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এখানে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে এমনটাই মনে করছে স্থানীয়রা।
বড়খাতা ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হয়েছেন আবু হেনা মোস্তফা জামাল সোহেল। এ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও লালমনিরহাট-১(হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন এমপি’র ভাতিজা সজল হোসেনও হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ ইউনিয়নে দুই পরিবারের দন্ধের কারনে সতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হাই আছেন অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে।
ফকিরপাড়া ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম।  সদ্য বহিঃ কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আজিজার রহমান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। এছাড়াও এ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ফজলার রহমান খোকন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আনজুমান আরা হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাই এখানে নৌকার মাঝি নুরুল ইসলাম আছেন দুর্চিন্তায়।  তবে এ ইউপিতে  ফজলার রহমান খোকনের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সানিয়াজান ইউনিয়ন নৌকার মাঝি হয়েছেন আবুল হাসেম তালুকদার। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য বহিঃ কৃত প্রাথমিক সদস্য এনায়েত উল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মাঠে আছেন।  এ ইউনিয়নেও নৌকার মাঝি আছেন দুর্চিন্তায়
গড্ডিমারী ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল। এ ইউনিয়নে উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছামছুল হুদা লিটন হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।  নৌকার মাঝি আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল আছেন অনেকটাই ফুরফুরে। গড্ডিমারীতে নৌকার জয় অনেকটাই নিশ্চিত।
পাটিকাপাড়া ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মজিবুল আলম সাদাত। এই ইউনিয়নে ও নৌকার জয় অনেকটাই নিশ্চিত।
সিন্দুর্না ইউনিয়নে নৌকা পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান আহম্মেদ। এ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরল আমিন নৌকা প্রতিক না পাওয়ায় তিনি নির্বাচন থেকে দূরে আছেন।  তার সমর্থকরা এখনো নুরুজ্জামান কে ভালভাবে নেয়নি।  এখানে সতন্ত্র প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
সিঙ্গিমারী ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মনোয়ারা হোসেন দুলু।  এ ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান এমজি মোস্তফা  নির্বাচনে অনেকটাই এগিয়ে আছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হেরেছেন। এর প্রভাব ইউনিয়ন নির্বাচনেও পড়তে পারে। আর এ যেন স্বতন্ত্রের আড়ালে আওয়ামী লীগ। এতে কোনো কোনো ইউনিয়নে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্রের আড়ালে মাঠে আছেন বিএনপি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লিয়াকত হোসেন বাচ্চু বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একটি বড় সংগঠন, বড় দলের অনেকেই নৌকা প্রতিক চেয়েছিলো না পাওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অনেকেই প্রার্থী হয়েছে।  দল তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  আমাদের নেতাকর্মী দের মধ্যে একটু অনৌক্য লক্ষ করা যাচ্ছে দু এক দিনের মধ্যেই তার সমাধান হয়ে যাবে।  জননেতা মোতাহার হোসেন এ উপজেলায় যে উন্নয়ন করেছেন আশা করি সাধারন ভোটাররা নৌকা ছাড়া অন্য কোন প্রতিকে ভোট দিবেন না। উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নেই নৌকা বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে বলে আমরা আশাবাদী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here