সিলেটে শীর্ষ ছিনতাইকারী কালা শফিক ও তার বাহিনীর বিপজ্জনক দৌরাত্ম্য

0
83

সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটের শীর্ষ ছিনতাইকারী শফিক উরুফে কালা শফিক আইনের চোখে পলাতক হলেও ঈদকে টার্গেট করে তার বাহিনী মহানগরীসহ আশপাশ এলাকায় প্রতিনিয়ত ছিনতাই রাহাজানি অব্যহত রেখেছে। দূর্দান্ত এ ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে ৪টি হত্য মামলাসহ সেনাবাহিনীর এক সদস্যের টাকা দিন-দুপুরে ছিনতাই, মরণ নেশা ইয়াবার চালানসহ হাতে নাতে গ্রেফতার হয়েও জেল থেকে বের হয়ে আবারও সেই পুরোনো পেশাকে বেচে নেয় কালা শফিক।

প্রশ্ন উঠেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে কালা শফিক এবং তার অপরাধ কর্মকাণ্ড দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে কিভাবে? সিলেটে ছিনতাইয়ের ঘটনা যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরের জিনিস জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়ার মতো কুকর্মের ঘটনা আর যাই হোক পেশা হতে পারে না। আর সেই কাজটাই করে যাচ্ছে পেশাদার ছিনতাইকারী কালা শফিক ও তার বাহিনী। এদের দ্রুত আইনের আওতায় এখনই না আনা হলে বিপদ বেড়েই চলেছে এবং আরও বাড়বে।

সর্বশেষ বন্দরবাজার এলাকায় এই শীর্ষ ছিনতাইকারী কালা শফিকের ছিনতাইর শিকার হয়েছেন একজন পথচারি। রোববার (০২ মে) বন্দরবাজার কাস্টঘর গলির মুখে এ ঘটনাটি ঘটে। এসময় ওই পথচারিকে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে তার মোবাইল ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীর কাস্টঘর এলাকায় অপরাধ চক্র পরিচালনা করে এই কালা শফিক। প্রতিটি ঘটনা ঘটিয়ে কিছুদিনের জন্য গা ডাকা দিলেও আবার সুযোগ বুঝে সিলেট শহরে দূর-দূরান্ত থেকে আগত সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে তাদের কাছ থেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করে নিয়ে যায় সর্বস্ব। এমন অভিযোগের শেষ নেই।

কালা শফিকের সেল্টারদাতা কারা? দীর্ঘদিন থেকে তার অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও মাঝে-মধ্যে গ্রেফতার হলেও রহস্যজনক ভাবে ছাড় পাচ্ছে বার বার। জেল থেকে বেরিয়ে এসে তার বাহিনীদের নিয়ে আবারও অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

বন্দরবাজার এলাকার ভূক্তভোগীরা বলছেন- যারা কালা শফিকের মতো অপরাধীদের লালন-পালন করে পর্দার আড়ালে থেকে ছিনতাই ও ইয়াবার ব্যবসার পরিচালনা করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে কালা শফিকের মতো অপরাধী বার বার তৈরী হবে। এরা নিজেদের পকেট ভারী করতেই এমন অপরাধী বা অপরাধের স্বর্গরাজ্য তৈরী করছে। আর সেই অপরাধীরা হয়ে ওঠে দুর্দান্ত ছিনতাইকারী, পকেট মার, মাদক বিক্রয়কারী ও মাদকসেবী। ফলে সমাজে বাড়ছে ছিনতাই ও মাদকের মতো অপরাধ।

সম্প্রতি বন্দরবাজারস্থ রংমহল টাওয়ারের পাশে গড়ে ওঠা ফুটপাতে এক সাংবাদিক অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় কালা শফিক ও তার বাহিনীর ডালিম উরুফে তীর ডালিম এবং মিজান উরুফে বাবা মিজানসহ তিন ছিনতাইকারী। পরে ধাওয়া করে স্থানীয় জনতা ধোলাই দিলেও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় মিজান। পরে ওই সাংবাদিক বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন এসএমপির কোতোয়ালি থানায়, (নাং-৭৬/২১)।

এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয় শফিক উরুফে কালা শফিককে। এদিকে অপর দুই ছিনতাইকারীর সঠিক টিকানা না পাওয়ার আদালতে তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

কালা শফিকের বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ

গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর ৩৭০ পিস ইয়াবাসহ র‌্যাব-৯ এর হাতে গ্রেফতার হয় শফিক। পরে মামলা দায়ের করে এসএমপির কোতোয়ালী থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়, (নাং- ৯/২০)।

২০১৮ সালের ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার মোরাদপুর পয়েন্ট থেকে সেনাবাহিনীর ল্যান্সকর্পোরাল মো: মইনুল ইসলামকে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় শফিক। এরপর এ ঘটনায় মো: মইনুল ইসলাম বাদী হয়ে শাহপরান (রহ.) থানায় মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-৪/১৮। এই মামলাও গ্রেফতার হয় কালা শফিক। পরে স্বীকারোক্তিমূলক জবাবন্দি প্রধান করে। সেই মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এছাড়াও ছিনতাইকারী কালা শফিকের অপকর্মে বাধা দেয়ায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ সিদ্দিকীর ছেলেকে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যা করে এই শফিক। সেই মামলায় সে জেল হাজতে ছিল। শাপরান (রহ.) থানার মামলা নং-৬, তারিখ ১১/১২/১২। মামলাটিও বর্তমানে বিচারাধীন।

এছাড়াও এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা নং-১১(১০)০৬ ধারা ৩০২/৩৪ এটিও হত্যা মামলা।কোম্পানিগঞ্জ থানার জিডি নং-১৪৬৮/তারিখ ২২/০৯/২০২০। কোতয়ালি মামলার নং-৭৬ /২১ এটিও ছিনতাই মামলা।

কালা শফিক অসংখ্যবার বিভিন্ন অপকর্মে গ্রেপ্তার হলেও তাকে তার সেল্টারদাতারা আইনের ফাক ফোকর দিয়ে জামিন করিয়ে নিয়ে এসে তাকে দিয়ে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ মূলক কর্মকান্ড চালায়।

তারপরও সিলেট মহানগরীসহ আশপাশ এলাকায় তার বাহিনী নিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে গেলেও প্রশাসন তাকে খোঁজে পাচ্ছে না।

সে নিজেকে কখনও লেগুনা ড্রাইভার, কখনও সিএনজির ড্রাইভার, কখনও ছাত্রলীগ, কখনও ছাত্রদল ক্যাডার পরিচয় দিয়ে দাপটের সহিত মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার উপর।

অপরদিকে অসংখ্য মামলার আসামী শীর্ষ ছিনতাইকারী কালা শফিক ও তার সহযোগী তীর ডালিমকে কোতায়ালি থানায় আলোচিত একটি ছিনতাই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এই দুই অপরাধীর নাম টিকানা পাওয়া যায়নি এই অজুহাতে তাদেরকে মামলা থেকে অব্যহতির প্রার্থনা করেছেন। তাই এই তদন্তকারী কর্মকতা তাদের সমন্ধে খোঁজ-খবর না নিয়ে কিভাবে অভিযোগ পত্র দাখিল করলেন এমন প্রশ্ন ভূক্তভোগীদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here